কাপ্তাইয়ে ডলুইছড়ি জলকেলি উৎসবে মাতোয়ারা তরুণ-তরুণী

রিপন মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ
২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ৭:১০ পিএম
শেয়ার করুন:
কাপ্তাইয়ে ডলুইছড়ি জলকেলি উৎসবে মাতোয়ারা তরুণ-তরুণী

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই বা জলকেলি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। পুরনো বছরের সব দুঃখ-কষ্ট, গ্লানি ও জরাজীর্ণতা ধুয়ে-মুছে ফেলার প্রত্যাশায় প্রতি বছরের মতো এবারও ডলুইছড়ি মারমা পাড়ায় এই উৎসব উদযাপন করা হয়।

শনিবার (২৬ এপ্রিল) ডলুইছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বাবু মারমা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের উদ্বোধন ও বক্তব্য প্রদান করেন ডলুইছড়ি ৩২২ মৌজার হেডম্যান উবাথোয়াই চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক উথোয়াইমং মারমা, পাইচিংমং মারমা, মংলু মারমা, আপ্রু মারমা, মিসেস ক্রাজাইপ্রু মারমা, হ্লাসুইউ মারমা, রাইখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবুল হাসেম মেম্বার, সের খান, লোটাস ভট্টাচার্য, দেশ টিভির হাসান উল্ল্যাহ, ৭১ টিভির রিপন মারমা এবং মো. জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধান অতিথি ফিতা কেটে জলকেলি উৎসবের মূল আকর্ষণ পানি খেলার উদ্বোধন করেন। এরপর বাঁশির সুরে শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী জলকেলি। এতে অবিবাহিত তরুণ-তরুণীরা ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকায় রাখা পানি দিয়ে একে-অপরকে ভিজিয়ে দেন। মারমা সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, এভাবে বিগত বছরের সব পাপ ও দুঃখ দুর্দশা ধুয়ে-মুছে যায়।

পানি খেলার সময় তরুণীরা একপাশে ও তরুণরা বিপরীতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে বাঁশির সঙ্কেতে একে অপরের দিকে পানি ছিটাতে থাকেন। এক দলের খেলা শেষে অন্য দল অংশ নেয়। এই জলকেলি তরুণ-তরুণীদের পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত।

জলকেলি দেখতে হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর উৎসবস্থলে ভিড় করেন। যদিও সাংগ্রাই মূলত মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, তবে এতে পার্বত্য অঞ্চলের অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী ও বাঙালিরাও অংশগ্রহণ করে, ফলে উৎসবটি রূপ নেয় পাহাড়ি-বাঙালির এক মিলনমেলায়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।