নগরকান্দায় পলাতক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, সেবাবঞ্চিত ইউনিয়নবাসী
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে পলাতক থেকে দায়িত্ব পালন, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পরিষদে অনুপস্থিত এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তার স্বাক্ষর জাল করে পরিষদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ইউনিয়ন উদ্যোক্তা সালাউদ্দিন। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নানা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন পরিষদে উপস্থিত না থেকেও ঢাকা বা জেলা সদরে অবস্থান করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে নাগরিকরা জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা পেতে সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষা করছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, আরিফ হোসেন শূন্য থেকে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। জীবনের শুরুতে তিনি ফ্লেক্সিলোড ও মশার কয়েল বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে টানা তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের ইউনিয়ন উন্নয়ন তহবিলের ১০ লাখ টাকার গভীর নলকূপ স্থাপন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, নলকূপটি ইউনিয়ন উদ্যোক্তার বাড়িতে স্থাপন করা হলেও তা কার্যকর নয় এবং সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসছে না।
এছাড়া বাউতিপাড়া ব্রিজ থেকে হিয়াবলদী হরিনখালী খাল পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পেও দায়সারা কাজ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে ফুলসুতি পানি সরবরাহ প্রকল্প ও হিয়াবলদী পানি সরবরাহ প্রকল্পে গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের স্বচ্ছ হিসাব নেই বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, যেসব এলাকায় সুপেয় পানির সংকট রয়েছে সেখানে নলকূপ স্থাপন না করে একই এলাকায় একাধিক প্রকল্প দেখিয়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা এখনও নিরাপদ পানির বাইরে রয়েছেন।
চেয়ারম্যানের সম্পদের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তার গ্রামের বাড়িতে দোতলা ভবন, এলাকায় কয়েক বিঘা জমি, ফরিদপুর শহরে বহুতল ভবন এবং ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া তার কন্যা অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করছেন বলেও জানা যায়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, এত সম্পদের উৎস কী?
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা মাসিক সভায়ও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি উপস্থিত হননি এবং হাজিরা খাতায় তার কোনো স্বাক্ষর নেই।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ইউনিয়নবাসী।
চেয়ারম্যানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন মুঠো ফোনে জানান গভীর নলকূপ যেটার বিষয় বলছেন সেটা এখনো কমপ্লিট হয়নি।যে এলাকায় পানির ব্যবস্হা নেই সেখানে প্রকল্প পর্যায়ক্রমে কাজ হবে।এছাড়া আমি সেদিনও অফিস করে এসেছি। অর্থবৃত্তের কথা বলার আগেই তিনি ফোন রেখে দেন।
What's Your Reaction?
মিজানুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ