কাপ্তাইয়ে প্রয়াত মংলু মারমা ও ম্রাজুপ্রু মারমা স্মরণে দুই দিনব্যাপী মহতী পুণ্যদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৫নং ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বড়ইছড়ি মারমা পাড়ায় প্রয়াত সমাজসেবক মংলু মারমা এবং তাঁর সহধর্মিণী ম্রাজুপ্রু মারমার স্মরণে দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালা অত্যন্ত উৎসবমুখর ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৯ ও ৩০ মার্চ (রবিবার ও সোমবার) বড়ইছড়ি পাড়া সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে এই বিশাল ধর্মীয় সভা ও পুণ্যদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিৎমরম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত উঃ পামোক্ষা মহাথের। এছাড়াও কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন বিহারের অধ্যক্ষসহ আমন্ত্রিত ভিক্ষুসংঘের সদস্যরা এতে অংশ নেন।
দুই দিনব্যাপী এই পুণ্যময় আয়োজনে শীল গ্রহণ, বুদ্ধ পূজা, ভিক্ষুসংঘকে পিণ্ডদান এবং অষ্টপরিষ্কার দানসহ নানা মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এর মধ্যে চীবর দান, অর্থ ও অর্ঘ্য দান এবং কল্পতরু উৎসর্গ ছিল অন্যতম। সবশেষে প্রয়াত দম্পতির আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। অনুষ্ঠানে আগত পূজনীয় ভিক্ষুসংঘ ও পুণ্যার্থীবৃন্দকে বিনম্র বন্দনা ও যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে মূল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রয়াতদের ধর্মপুত্র ভদন্ত সনাসীরি মহাথের-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রয়াত দম্পতির সন্তান, পুত্রবধূ, জামাতা ও নাতি-নাতনিসহ পরিবারের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের দুই দিনে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার বৌদ্ধ ধর্মালম্বী ও পুণ্যার্থীর আগমন ঘটে, যার ফলে বিহার প্রাঙ্গণটি এক পবিত্র মিলনমেলায় পরিণত হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বড়ইছড়ি মারমা পাড়ার জনপ্রিয় কবিরাজ ও সমাজসেবক মংলু মারমা পাঁচ বছর আগে পরলোকগমন করেন। এর দেড় বছর পর তাঁর সহধর্মিণী ম্রাজুপ্রু মারমা মৃত্যুবরণ করেন। প্রয়াত দম্পতির বড় ছেলে অংথোয়াইচিং মারমা ও বড় জামাতা টি মং মারমা জানান, বাবা-মায়ের পারলৌকিক সদগতি ও আত্মার শান্তি কামনায় বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে এই চীবর দান ও অষ্টশুদ্ধিকরণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সোমবার বিকেলে দুই দিনব্যাপী এই পুণ্যময় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
What's Your Reaction?
রিপণ মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ