বিতর্কের মুখে দেশে ফিরলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল
দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানা নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। গত শনিবার মধ্যরাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে তিনি রাজধানী ঢাকায় পৌঁছান। আজ রোববার বিসিবির একাধিক পরিচালক গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত রোজার ঈদের আগে অনেকটা নিভৃতেই দেশ ছেড়েছিলেন বিসিবি সভাপতি। তাঁর এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি ক্রিকেট মহলে নানা গুঞ্জনের জন্ম দেয়। বিশেষ করে তিনি কি আদৌ ফিরবেন, নাকি বিদেশ থেকেই দায়িত্ব পালন করবেন—এমন প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছিল। বোর্ড কর্তারা আগে জানিয়েছিলেন যে, পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ায় ঈদ কাটিয়ে ২৬ বা ২৭ মার্চের মধ্যে তিনি ফিরবেন। নির্ধারিত সময়ের দুদিন পর ২৯ মার্চ সশরীরে হাজির হয়ে তিনি সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটালেন।
তবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের এই প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটল, যখন বিসিবির গত অক্টোবরের নির্বাচন নিয়ে উত্তাল দেশের ক্রীড়াঙ্গন। ঢাকার বিভিন্ন ক্লাব এবং জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার একঝাঁক সংগঠক ওই নির্বাচনকে ‘অবৈধ ও অস্বচ্ছ’ দাবি করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ওই নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও অনাকাঙ্ক্ষিত সরকারি হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
এই অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ইতিমধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জানা গেছে, আগামী এপ্রিলের প্রথম ভাগেই এই কমিটি তাদের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তদন্তের স্বার্থে কমিটি ইতিমধ্যে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করেছে। তবে তিনি এখন দেশে ফিরে আসায় তাঁকে সশরীরে কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে জবানবন্দি দিতে হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নিজের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে নিয়মবহির্ভূতভাবে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাছ থেকে কাউন্সিলরশিপ নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি। বিসিবি সভাপতির ফেরার পর এখন নির্বাচনী এই বিতর্কের জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে দেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ