মুন্সীগঞ্জে পর্নোগ্রাফি মামলায় যুবককে গ্রেপ্তার
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ইয়াকুব শেখ (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার কর??
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ইয়াকুব শেখ (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার শ্রীনগর থানায় দায়ের করা মামলায় (নং ০৬/০২/২৪) তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে ইয়াকুবের পরিবারের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মজিবরের এক মেয়ে ফেসবুকে ‘আতিকুর ইসলাম’ নামের একটি আইডির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। অভিযোগ রয়েছে, কৌশলে আতিকুর ইসলাম ওই তরুণীর কাছ থেকে তার আপত্তিকর ছবি সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে আতিকুর ইসলাম ওই তরুণীকে তার চাচাতো বোনের গোসলের ভিডিও ধারণ করে পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করে, অন্যথায় তার নিজের আপত্তিকর ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে আতিকুর একটি ‘বডি-অন ক্যামেরা’ পার্সেলের মাধ্যমে ওই তরুণীর কাছে পাঠায়। সেই ক্যামেরা ব্যবহার করে তরুণী তার চাচাতো বোনের গোসলের ভিডিও ধারণ করে আতিকুরকে পাঠায়। পরে আতিকুর সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দাবি করে।
এদিকে, গ্রেপ্তার ইয়াকুবের স্বজনদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে ইয়াকুবের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ইয়াকুবের চাচা হাবিবুর রহমান জানান, আতিকুর ইসলামের ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে ইয়াকুবের নাম থাকায় এবং মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম অপুর সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ থাকায়, অপু প্রতিশোধ নিতে ইয়াকুবকে এই মামলায় জড়িয়েছে।
ইয়াকুবের মা হনুফা বেগম বলেন, ‘যিনি ভুক্তভোগী মেয়েটি, সে সম্পর্কে আমার ছেলের ফুফু হয়। পারিবারিক সম্পর্কের জায়গা থেকে আমার ছেলে এমন জঘন্য কাজ করতে পারে না। শুধু জমি নিয়ে শত্রুতার জেরে আমার ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে।’
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শ্রীনগর থানার এসআই মো. রিপন আহমেদ জানান, ইয়াকুবের ফেসবুক মেসেঞ্জার ব্যবহার করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দাবি করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সেই সূত্র ধরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রযুক্তিগত তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আসামিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পালটা অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
What's Your Reaction?
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ