আলফাডাঙ্গায় ক্রীড়াচর্চায় তরুণদের উৎসাহ দিতে জার্সি বিতরণ
খেলার মাঠ যেখানে, সেখানেই গড়ে ওঠে সুস্থ দেহ, প্রাণবন্ত মন আর সুন্দর আগামীর ভিত। যুব সমাজকে মাদক ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে মাঠমুখী করার লক্ষ্যে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় তরুণ খেলোয়াড়দের মাঝে জার্সি বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের একদল উদ্যমী তরুণ খেলোয়াড়ের হাতে এই জার্সি তুলে দেওয়া হয়। আলফাডাঙ্গার মাটিতে ক্রীড়ার আলো ছড়িয়ে দিতে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী বেল্লাল মুন্সির ব্যক্তিগত অর্থায়নে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জার্সি হাতে পেয়ে তরুণদের চোখেমুখে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নতুন উদ্যমে মাঠে ফেরার প্রতিজ্ঞা করেন তারা। অনুষ্ঠানের জার্সি বিতরণকালে বেল্লাল মুন্সি বলেন, "যুব সমাজই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। আমি বিশ্বাস করি, তরুণদের পাশে থাকার এই ছোট ছোট উদ্যোগগুলোই একদিন বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।"
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এক তরুণ ক্রীড়াবিদ বলেন, "খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়, এটি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের প্রধান পাঠশালা। যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধের অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে এনে আলোর পথে পরিচালিত করতে সুশৃঙ্খল ক্রীড়াচর্চার কোনো বিকল্প নেই। একটি সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে আমাদের প্রতিদিনের জীবনে খেলার অভ্যাস ফিরিয়ে আনা জরুরি।"
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজনের বক্তব্যে উঠে আসে সাহিত্যের ছোঁয়া ও মাঠের দর্শন। স্থানীয় এক শিক্ষাবিদ বলেন, "মাঠ হলো জীবনের প্রথম বিদ্যালয়। এখানে শেখা যায় নিয়ম মানতে, পরাজয় মেনে নিয়ে হাসিমুখে আবারও উঠে দাঁড়াতে। আজকের এই জার্সি কেবল একটি পোশাক নয়, এটি তরুণদের স্বপ্নের পতাকা।"
আরেকজন সমাজকর্মী তার বক্তব্যে বলেন, "যখন একটি ছেলে মাঠে ছোটে, তখন সে কেবল বলের পেছনে ছোটে না, বরং সে ছোটে একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবনের পেছনে। এমন মহৎ উদ্যোগই পারে সমাজের শিরা-উপশিরায় নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে।"
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, তরুণ সমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পুরো এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিকেলের আকাশে তখন প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল একটাই শ্লোগান— **‘ক্রীড়াই শক্তি, ক্রীড়াই বল’**। তরুণদের এই প্রাণচাঞ্চল্যই জানান দিচ্ছিল—আগামীর আলফাডাঙ্গা হবে মাদকমুক্ত ও তারুণ্যের শক্তিতে বলীয়ান।
What's Your Reaction?
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ