জনগণের রায় নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা চলবে না' : রাজশাহীতে ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্কঃ
May 17, 2026 - 11:25
জনগণের রায় নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা চলবে না' : রাজশাহীতে ডা. শফিকুর রহমান

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন করেছি। তবে শেষ পর্যন্ত তরুণ প্রজন্মের অকাতর আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়েই বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "জনগণের ৭০ শতাংশ রায়কে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে। এই বীর জাতির সঙ্গে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করা চলবে না।"

শনিবার (১৬ মে ২০২৬) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে এক বিশাল বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের প্রতি কড়া সমালোচনা:
ডা. শফিকুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, "যাদের রক্ত ও ত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে আজ অনেকে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, ক্ষমতায় গিয়ে তারা আজ সেই তরুণদেরই অবমূল্যায়ন করছেন। স্বপ্নবাজ এই তরুণদের এখন ‘শিশু সংগঠন’ বা ‘গুপ্ত সংগঠন’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বর্তমান সরকারও বিগত স্বৈরাচারের দেখানো পথেই হাঁটতে শুরু করেছে।"

তিনি আরও বলেন, "জনস্বার্থে সরকারের যেকোনো ভালো কাজের আমরা সমর্থন দেব, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে ইস্পাতের মতো কঠিন। সংসদে যদি সত্য কথা বলতে বাধা দেওয়া হয়, তবে আমরা রাজপথে জনগণের মাঝে গিয়ে কথা বলব।"

সীমান্ত ও পররাষ্ট্র নীতি:
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে জামায়াত আমির স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা প্রতিবেশী সব রাষ্ট্রকে সম্মান করি। কিন্তু কেউ যদি আমাদের চোখ রাঙাতে চায়, তবে এ দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। জাতীয় নিরাপত্তা ও শান্তি বিঘ্নিত হলে দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।"

পানি সমস্যা ও পরিবেশ:
পদ্মা ও তিস্তা নদীর পানিসংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "পানির অভাবে উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। সরকার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে, যা ভালো। কিন্তু মূল নদীতে যদি পানি না থাকে, তবে শুধু খাল খনন করে কোনো সুফল মিলবে না। আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।"

অন্যান্য নেতার বক্তব্য:
সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, "মানুষ এবার শুধু ব্যক্তি দেখে নয়, রাজনৈতিক ঐতিহ্য বিবেচনা করে ভোট দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কিছু জায়গায় চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছে। বিএনপিকে প্রমাণ করতে হবে যে তারা কেবল নিজেদের জন্য নয়, দেশের মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে।" 

অন্যতম বক্তা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, "রাজশাহী শহীদের ঘাঁটি। আমরা কোনো চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসের রাজনীতি করতে আসিনি। আমাদের লক্ষ্য ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।"

সমাপনী:
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow