প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘেরাও কোরিয়ার ভিসা-প্রত্যাশীদের

অনলাইন ডেস্কঃ
১৪ মে, ২০২৬ ৩:৫৬ পিএম
শেয়ার করুন:
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘেরাও কোরিয়ার ভিসা-প্রত্যাশীদের

দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনা নিরসনের দাবিতে রাজধানীর ইস্কাটনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ঘেরাও করেছেন শত শত ইপিএস (এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম) কর্মী। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। আন্দোলনকারীদের অবস্থানের কারণে মন্ত্রণালয়ের মূল ফটক দিয়ে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

বিক্ষোভের কারণ ও প্রেক্ষাপট:
আন্দোলনরত কর্মীরা জানান, তারা দক্ষিণ কোরিয়ান ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কোরিয়া যাওয়ার অপেক্ষায় ‘রোস্টারভুক্ত’ ছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও তাদের ভিসা ইস্যু করা হয়নি, বরং অনেকের নাম নিয়মবহির্ভূতভাবে রোস্টার থেকে বাদ (ডিলিট) দেওয়া হয়েছে। বোয়েসেলের (BOESEL) গাফিলতি ও সিস্টেমের জটিলতায় তাদের বিদেশযাত্রার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য:
আন্দোলনে অংশ নেওয়া আলি আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ভাষা শিখেছি, সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে রোস্টারভুক্ত হয়েছি। কিন্তু বোয়েসেল আমাদের ফাইল সময়মতো কোরিয়ায় পাঠায়নি। আজ আমাদের জীবন থেকে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে গেল, আমরা বেকার হয়ে বসে আছি। আমরা এই অবিচারের অবসান চাই।"

আরেক ভুক্তভোগী মাছুম মিয়া জানান, "দুই বছর অপেক্ষা করার পর আমাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে ভাষা শিখে এখন আমরা রিক্তহস্ত। বোয়েসেল আন্তরিক হলে এই সংকট তৈরি হতো না। আমরা চাই দ্রুত কোরিয়ায় লোক পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক।"

আন্দোলনকারীদের ৫ দফা দাবি:
বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবিনামা পেশ করে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সমাধান না আসবে, তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তাদের মূল দাবিগুলো হলো:

১. ২০২২ ও ২০২৩ ব্যাচের যেসব কর্মীর নাম রোস্টার থেকে বাদ পড়েছে, তাদের পুনরায় তালিকাভুক্ত করে দক্ষিণ কোরিয়া পাঠাতে হবে।
২. বর্তমান রোস্টারভুক্ত ও অপেক্ষমানদের পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো সার্কুলার দেওয়া যাবে না।
৩. দক্ষিণ কোরিয়া ব্যতীত অন্য কোনো দেশে তারা যেতে ইচ্ছুক নন।
৪. অফিশিয়াল কোনো খরচ লাগলে কর্মীরা তা বহন করতে রাজি আছেন, কিন্তু তাদের পাঠাতে হবে।
৫. ব্যাচ অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিদেশ পাঠানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতি:
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, মন্ত্রণালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি আদায়ে স্লোগান দিচ্ছেন। মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।