নাগরিকদের সৌদি আরবসহ ১২ দেশ ছাড়ার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের
মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবসহ অন্তত ১২টি দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনার পর দূতাবাসের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কারণে ইরাকে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই দেশটিতে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিককে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়েছে।
এদিকে, ওমানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জরুরিভিত্তিতে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
অঞ্চলটিতে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করার দাবি করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। ইসরায়েলের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর লক্ষ্য ছিল দেশটির মধ্যাঞ্চল। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে ড্রোন হামলার পর সেখানে এখনো আগুন জ্বলছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ইরানের কঠোর অবস্থান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনে তেহরান হরমুস প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে।
হরমুস প্রণালীতে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর প্রতি সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ইরানের তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ইরানের সঙ্গে কোনো নতুন চুক্তির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই আহ্বানে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টি তারা স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করবে। তবে সামরিক সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা বাধার মুখেও পড়েছে। সুইজারল্যান্ড সরকার তাদের নিরপেক্ষতার অজুহাতে মার্কিন সামরিক বিমানের জন্য আকাশপথ ব্যবহারের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে, ইরাকে সামরিক দায়িত্ব পালনকালে গত ১২ মার্চ একটি জ্বালানিবাহী বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ছয় মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। নিহতরা হলেন— জন এ. ক্লিনার, আরিয়ানা জি. সাভিনো, অ্যাশলে বি. প্রুইট, সেথ আর. কোভাল, কার্টিস জে. আংস্ট এবং টাইলার এইচ. সিমন্স। দুর্ঘটনার কারণ এখনো তদন্তাধীন।
অন্যদিকে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, যদিও তার মৃত্যুর খবরটিকে তিনি গুজব হিসেবেই উল্লেখ করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটময় পরিস্থিতি এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
What's Your Reaction?
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ