৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী
সমাজে নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ করতে সারা দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রোববার (১৫ মার্চ ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "বর্তমানে সমাজে নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুভূতির গুরুত্ব ক্রমশ কমে যাচ্ছে। এর ফলে নানা ধরনের অনৈতিকতা ও অন্যায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার নৈতিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ধর্মীয় শিক্ষা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে।"
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই উদ্যোগের আওতায় ধর্মীয় শিক্ষা বলতে কেবল ইসলাম ধর্মকে বোঝানো হয়নি; বরং দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও মূল্যবোধকে প্রাধান্য দিয়েই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারিগরি দিক তুলে ধরে ড. মিলন বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সনদের বিষয়ে বর্তমানে কিছু জটিলতা রয়েছে। কওমি ব্যবস্থায় তারা ‘কিরাত’ শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত হলেও, সাধারণ মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় ‘কিরাত’ আলাদা কোনো বিষয় (সাবজেক্ট) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত নেই।
এই জটিলতা নিরসনের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই সনদ সংক্রান্ত এই বিষয়গুলোর সমাধান করা সম্ভব হবে। যারা কিরাতে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাদের মধ্য থেকেই এই ৯ হাজার ধর্মীয় বা ইসলামি শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি।"
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রারম্ভে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষণ দেন।
এরপর প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সর্বসম্মতিক্রমে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নির্বাচিত হন। ওই দিন দুপুর ১২টার পর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
পরবর্তীতে নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন। এরপর রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ