ফুটবলের রঙে রঙিন উত্তর আমেরিকা: ২০২৬ বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে মেতেছে তিন দেশ
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপের আর বেশি দেরি নেই। ২০২৬ সালের এই মহাযজ্ঞকে কেন্দ্র করে এখন উৎসবের আমেজে ভাসছে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে শহরের প্রধান রাজপথ, সর্বত্রই এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির ব্যস্ততা। আধুনিকায়ন করা হচ্ছে পরিবহন ব্যবস্থা, সাজানো হচ্ছে রাস্তাঘাট এবং নিশ্চিত করা হচ্ছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা।
কানাডায় সাজসাজ রব
কানাডার ভ্যানকুভারে অবস্থিত বিসি প্লেইস স্টেডিয়ামটি এখন বিশ্বের সেরা ফুটবল তারকাদের বরণ করে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। স্বয়ংক্রিয় শেড এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এই স্টেডিয়ামের ৫৪ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা ফুটবল ভক্তদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, টরেন্টোর ঐতিহাসিক নাথান ফিলিপ্স স্কয়ারকে আলোকসজ্জা ও আধুনিক অবকাঠামো দিয়ে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে টরেন্টোর বিএমও ফিল্ডে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বিশ্বকাপের ‘ড্রেস রিহার্সাল’। আয়োজকরা স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা, দর্শক প্রবেশ এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে উন্মাদনা
বিশ্বকাপের ঢেউ আছড়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতেও। বাস্কেটবল কিংবদন্তি ম্যাজিক জনসন ফুটবল ভক্তদের লস অ্যাঞ্জেলেসে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তার মতে, ফুটবল, বিনোদন আর হলিউডের ঝলক মিলিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস হবে বিশ্বের অন্যতম প্রাণবন্ত শহর। এদিকে, নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক এডামস ‘স্ট্রিট সকার’ ইভেন্টের মাধ্যমে ফুটবলকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। ছোট-বড় সবাই এখন এই ফুটবল উৎসবে শামিল। এক সময়ের সাধারণ শহর ক্যানসাস সিটিও এখন শক্তিশালী ফুটবল সংস্কৃতি আর সমর্থকদের উন্মাদনায় বিশ্ব দরবারে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
পরিবহন ও অবকাঠামোয় আধুনিকায়ন
বিশ্বকাপ উপলক্ষে মেক্সিকো সিটিতে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে যাতায়াত ব্যবস্থায়। নতুনভাবে চালু হওয়া ‘মেক্সিকো সিটি লাইট রেল’ এবং নতুন বৈদ্যুতিক ট্রেন ব্যবস্থার ফলে দর্শনার্থীদের যাতায়াত আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে। আসরের অন্যতম ভেন্যু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এখন চলছে মাঠ প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ের কাজ। ঘাসের মান উন্নয়ন এবং নিখুঁত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কর্মীরা।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপকে বরণ করে নিতে উত্তর আমেরিকা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই মহাযজ্ঞ উত্তর আমেরিকাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ