চরবাসীর মুখে হাসি ফোটালেন স্পেন প্রবাসী ইউনুছ আলী

নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
Mar 15, 2026 - 23:36
চরবাসীর মুখে হাসি ফোটালেন স্পেন প্রবাসী ইউনুছ আলী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার দুর্গম চরবাসীর দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে এসেছেন স্পেন প্রবাসী বিএনপি নেতা ইউনুছ আলী প্রামাণিক। সম্পূর্ণ নিজ অর্থায়নে খালের ওপর রাস্তা নির্মাণ, ট্রলার ঘাটে যাত্রী ছাউনি ও বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েল স্থাপন করে তিনি এখন নদীভাঙা ও অবহেলিত চরবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন।

জানা যায়, পদ্মা নদীর ওপারে অবস্থিত চরহরিরামপুর ইউনিয়নের ভাটি শালেপুর গ্রামে একটি খালের কারণে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো চরাঞ্চলের মানুষদের। সেখানে থাকা একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে কেবল হেঁটে বা সাইকেল-মোটরসাইকেলে পারাপার সম্ভব ছিল। কৃষি পণ্য ও মালামাল পরিবহনে ব্যবহৃত ঘোড়ার গাড়ি, ট্রলি বা ট্রাক্টর পার হওয়ার কোনো উপায় ছিল না। 

বিষয়টি জানতে পেরে ইউনুছ আলী প্রামাণিক নিজ উদ্যোগে খালের পানি প্রবাহ সচল রেখে কাঠের মোটা গুঁড়ির ওপর মাটি ফেলে একটি প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করে দেন। ফলে বর্তমানে ওই পথে সব ধরনের যানবাহন অনায়াসেই চলাচল করতে পারছে। কৃষি পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় চরবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

যাতায়াতের এই সুবিধা ছাড়াও পদ্মা নদীর শালেপুর ট্রলার ঘাটে যাত্রীদের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা বিবেচনা করে তিনি একটি দৃষ্টিনন্দন যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করে দিয়েছেন। এতে রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়-তুফানের সময় যাত্রীদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হয়েছে। পাশাপাশি অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বিশুদ্ধ পানির তৃষ্ণা মেটাতে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে একটি টিউবওয়েল।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বছরের প্রায় আট মাস পদ্মার বিস্তীর্ণ এলাকা শুকিয়ে বিশাল চর জেগে থাকে। উপজেলা সদরের এমপি ডাঙ্গী ঘাট থেকে ট্রলারে প্রায় ১৫ মিনিট নদীপথ পাড়ি দিয়ে শালেপুর চরে পৌঁছাতে হয়। এরপর সেখান থেকে অন্তত ৫ কিলোমিটার মেঠোপথ পেরিয়ে চরহরিরামপুর ইউনিয়নের লোকালয়ে যেতে হয়। দুর্গম এই পথে যাতায়াতের এমন উন্নয়ন চরবাসীর জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।

চর শালেপুর গ্রামের বাসিন্দা সেন্টু শিকদার (৩৮) আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "আমরা চরের মানুষ বলে অনেকেই আমাদের অবহেলার চোখে দেখে। আমাদের কষ্টের দিকে কেউ তেমন নজর দেয় না। কিন্তু ইউনুছ আলী প্রামাণিক আমাদের দুর্ভোগের কথা শুনে রাস্তা, যাত্রী ছাউনি ও টিউবওয়েল করে দিয়েছেন। আমরা তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ।"

ঘাটের নিয়মিত যাত্রী শামেলা খাতুন (৫০) বলেন, "যুগ যুগ ধরে কত নেতা আসলো-গেলো, কিন্তু খালের কারণে গাড়ি-ঘোড়া পার হতে পারত না, রোদ-বৃষ্টিতে ঘাটে যাত্রীরা কষ্ট পেতো—কেউ তা দেখেনি। ইউনুছ আলী যে মানবিক কাজগুলো করেছেন, তা চরের মানুষ আজীবন মনে রাখবে।"

মানবিক এই উদ্যোগের বিষয়ে স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি ইউনুছ আলী প্রামাণিক বলেন, "মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখে আমি নিজের বিবেককে মানাতে পারিনি। তাই সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি তাদের পাশে দাঁড়ানোর। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা, ক্লাব, সংগঠন ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি।"

উল্লেখ্য, সমাজসেবক ইউনুছ আলী প্রামাণিকের পৈতৃক নিবাস পার্শ্ববর্তী চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়নের উত্তর আলমনগর মধু শিকদার ডাঙ্গী গ্রামে। প্রবাসে থেকেও চরবাসীর কল্যাণে এমন নিঃস্বার্থ অবদান রাখায় সর্বত্র তার প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow