সদরপুরে দুই শতাব্দী প্রাচীন শ্মশান ঘাটের সংস্কার কাজের উদ্বোধন

নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
Apr 1, 2026 - 22:59
সদরপুরে দুই শতাব্দী প্রাচীন শ্মশান ঘাটের সংস্কার কাজের উদ্বোধন

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি ঐতিহাসিক শ্মশান ঘাটের সংস্কার কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চরডুবাইল গ্রামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই সংস্কার কাজের শুভ উদ্বোধন করেন সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শরীফ শাওন।

ঢেউখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বয়াতীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য মো. আইউব বেপারী, মো. আঃ লতিফ সিকদার, সাবেক ইউপি সদস্য ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা রাধাকান্ত মালো (ফেলা) এবং তপন রায়। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রায় ২০০ বছর পূর্বে ঢেউখালী ইউনিয়নের বাসুদেব ভট্টাচার্য ও চিন্তাহরন ভট্টাচার্যের পূর্বপুরুষরা চরডুবাইল গ্রামের ৫১ নং ডুবাইল মৌজায় এই সার্বজনীন শ্মশানটি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন থেকেই ঢেউখালী, চরডুবাইল, হরিন্যা, চরব্রাহ্মন্দী, বাবুরচর, আলেখার কান্দাসহ সদরপুর ও আশেপাশের এলাকার হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এখানে শেষকৃত্য সম্পন্ন করে আসছেন। শশীভূষণ সূত্রধর, হরিপদ সূত্রধর, নগরবাসী কর্মকার ও নগেন কর্মকারসহ স্থানীয় অনেকে দীর্ঘদিন এই শ্মশানের কার্যাবলীতে সহযোগিতা করে আসছেন।

বর্তমানে হরিন্যা মালোপাড়া ও চরব্রাহ্মন্দী এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও নিজস্ব অর্থায়নে শ্মশানঘাটটি সংস্কারের এই মহতী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী শ্রী বাসুদেব কর্মকার বলেন, "দীর্ঘদিন অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে এখানে শ্মশানযাত্রীদের নানা সমস্যায় পড়তে হতো। আজ সংস্কার কাজ শুরুর মাধ্যমে আমাদের দীর্ঘদিনের একটি আকাঙ্ক্ষা পূরণ হলো।"

প্রাক্তন শিক্ষক ও স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিভাবক শ্রী বাসুদেব সূত্রধর বলেন, "এই ঐতিহ্যবাহী শ্মশানটি আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংস্কার কাজ শেষ হলে এখানে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শেষকৃত্য করার সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে।"

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ শাওন বলেন, "বর্তমান সরকার সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রাচীন শ্মশানের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে এটি ব্যবহার করতে পারবেন।"

অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বয়াতী শ্মশানের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। সংস্কার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow