১৫ বছর পর বাসে অগ্নিসংযোগ ও হত্যা মামলা থেকে খালাস পেলেন ইলিয়াস আলী
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বাসে অগ্নিসংযোগ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরের কথিত পিতাকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলা থেকে দীর্ঘ ১৫ বছর পর সসম্মানে খালাস পেয়েছেন বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীসহ ৩৮ জন নেতাকর্মী। গত মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. শরিফুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের এই অব্যাহতি দেওয়া হয়।
খালাসপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম হওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এম ইলিয়াস আলী এবং ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান ও অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ।
মামলার প্রেক্ষাপট:
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচ চলাকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দক্ষিণ সুরমার বদিকোনা এলাকায় ‘হবিগঞ্জ সুপার এক্সপ্রেস’-এর একটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও অন্য একটি বাসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই অগ্নিকাণ্ডে বাসের ভেতরে দগ্ধ হয়ে মারা যান সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ কাজী নাছির, যাকে পরবর্তী সময়ে চিত্রনায়িকা শাবনূরের পালিত পিতা হিসেবে দাবি করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ তাকে পরিচয়হীন অবস্থায় দাফন করেছিল।
পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম থানায় গিয়ে স্বামীর জুতা, ঘড়ি ও বেল্ট দেখে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। ওই রাতেই পুলিশের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা এবং জনৈক পরিবহন ব্যবসায়ী দ্রুত বিচার আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করেন। এসব মামলায় এম ইলিয়াস আলীসহ ৪০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
আদালতের রায় ও প্রতিক্রিয়া:
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত গতকাল রায় প্রদান করেন। রায়ের সময় বিবাদী পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট হাসান রিপন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মসরুর চৌধুরী শওকত এবং অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ।
রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে বিবাদী পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এই মামলাটি ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দীর্ঘ ১৫ বছর পর আদালতের রায়ে প্রমাণিত হলো যে, বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করতেই মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও নিখোঁজ ইলিয়াস আলী ও দিনারের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনও কোনো হদিস মেলেনি, তবে আইনি লড়াইয়ে তারা কলঙ্কমুক্ত হলেন।
এই রায়ের মাধ্যমে খালাসপ্রাপ্ত অন্য আসামিরাও দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা ও মানসিক উদ্বেগ থেকে মুক্তি পেলেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ