‘বলেছে ১ কোটি টাকা দিলে কেস থেকে নাম উঠিয়ে দেবে’
দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা সাকিব আল হাসান বর্তমানে অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া একাধিক মামলা এবং জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এই প্রতিকূল সময়ে প্রথম আলোর সঙ্গে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের বর্তমান জীবন, আইনি জটিলতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন দেশসেরা এই অলরাউন্ডার।
মামলা প্রত্যাহারে ১ কোটি টাকার প্রস্তাব
সাক্ষাৎকারে সাকিব একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানান, মামলা থেকে নাম কাটিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে। সাকিব বলেন, "হ্যাঁ, আমার কাছে প্রস্তাব এসেছিল যে ১ কোটি টাকা দিলে মামলার এফআইআর থেকে নাম সরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু আমি মনে করি, টাকা দিয়ে কেন এটা করতে হবে? টাকা দেওয়া মানেই তো দায় স্বীকার করে নেওয়া।" তিনি আরও যোগ করেন, বাদীপক্ষ কোনো একজনের মাধ্যমে এই যোগাযোগ করেছিল, তবে তিনি এতে সায় দেননি।
দেশে ফেরার শর্ত ও নিরাপত্তা
দেশে ফেরার ব্যাপারে সাকিব জানান, তিনি ফিরতে আগ্রহী, তবে তাঁর দুটি বড় শর্ত রয়েছে। প্রথমত, তাঁর ওপর থাকা দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সাকিবের ভাষ্যমতে, "গ্রেপ্তার হওয়া নিয়ে আমি চিন্তিত নই, কিন্তু মব জাস্টিস বা ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে হামলার ভয় থাকে। সরকার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে ন্যূনতম সেই আশ্বাসের জায়গাটা আমার প্রয়োজন।"
তামিম ইকবাল ও বিসিবি প্রসঙ্গ
বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাকিব জানান, তামিম দায়িত্ব নেওয়ার পর 'ক্যাপ্টেনস কার্ড' দেওয়ার বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে তামিম সম্প্রতি অন্য দুই সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি ও দুর্জয়ের সঙ্গে সাকিবের বর্তমান অবস্থার তুলনা করায় তিনি ভিন্নমত পোষণ করেন। সাকিব বলেন, "মাশরাফি ভাই বা দুর্জয় ভাই হয়তো আর জাতীয় দলে খেলার চিন্তা করছেন না। কিন্তু আমি এখনো খেলতে চাই। তাই আমাদের তিনজনের অবস্থান এক নয়।"
জাতীয় দলে ফেরা ও ২০২৭ বিশ্বকাপ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার ব্যাপারে সাকিব বেশ আশাবাদী। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাট নিয়ে তিনি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করছেন। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে সাকিব বলেন, ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ওয়ানডে ক্রিকেটে তিনি অবদান রাখতে চান। তবে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি নিয়ে তিনি খুব একটা আগ্রহী নন। যথাযথ ফিটনেস ও প্রস্তুতির সুযোগ পেলে ওয়ানডেতে আবারও চেনা ছন্দে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
রাজনীতিতে আসা ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জন
সাত মাসের সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে সাকিবের কোনো আক্ষেপ নেই। তিনি মনে করেন, রাজনীতি ছাড়া ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলাকে সরকারের 'বড় ভুল' হিসেবে দেখছেন তিনি। সাকিব বলেন, "বিশ্বকাপে না খেলায় ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের চাহিদা ও সুযোগ দুটোই কমে গেছে।"
ভবিষ্যৎ ভাবনা
ক্রিকেট ছাড়ার পর বিসিবির প্রশাসনিক পদে বসার কোনো ইচ্ছা নেই সাকিবের। তবে মেন্টর বা কোচিংয়ের মাধ্যমে ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি। যদিও প্রথাগত কোনো কোচিং কোর্স করার আগ্রহ নেই তাঁর।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ফাঁকে ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন সাকিব। অপেক্ষা করছেন আইনি জটিলতা কাটিয়ে আবারও লাল-সবুজের জার্সি গায়ে মাঠে নামার।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ