মাদকের বিষে আর নয় মৃত্যু: আস্তানা গুঁড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাজপথ কাঁপাল আলফাডাঙ্গা সচেতন নাগরিক সমাজ
“মাদককে না বলি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি” এই শপথের বজ্রধ্বনিতে কেঁপে উঠল ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা সদর বাজার চৌরাস্তা। মাদকের বিষে নীল হয়ে যাওয়া যুবসমাজকে বাঁচাতে এবার রুদ্রমূর্তিতে রাজপথে নামল আলফাডাঙ্গা সচেতন নাগরিক সমাজ। কারবারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে গর্জে উঠেছে তারা। দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও এই মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
রোববার (১০ মে ২০২৬) বিকাল ৫টার দিকে আলফাডাঙ্গা সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শত শত মানুষ। হাতে প্ল্যাকার্ড, বুকে আগুনের তেজ, মুখে প্রতিবাদের স্লোগান। দুই ঘণ্টাব্যাপী এই প্রতিবাদ মানববন্ধনে স্কুলশিক্ষক, রিকশাচালক, ব্যবসায়ী, ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক, রাজনীতিবিদসহ নানা পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বজ্রকণ্ঠে বলেন, মাদক কোনো নেশা নয়, এটা পরিকল্পিত গণহত্যা। একটি ছেলে ইয়াবা ধরেছে মানে একটি মায়ের বুক খালি হয়েছে। একটি গ্রামে মাদক ঢুকেছে মানে পুরো একটা প্রজন্মকে কবর দেওয়া হয়েছে।
আজ যে হাতে ফেনসিডিল, কাল সে হাতে ছুরি। আজ যে পকেটে ইয়াবা, কাল সে পকেটে পিস্তল। এদের মায়া করলে নিজের সন্তানকে কবরে পাঠাতে হবে। এভাবেই গর্জে ওঠেন বক্তারা।
জনতার একটাই হুংকার মাদক কারবারীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দাও। দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের সর্বোচ্চ ধারায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাও, যাতে আর কোনো মা তার ছেলের লাশ বুকে না নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা মাদকের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করে বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় কোনো মাদক কারবারীর ঠাঁই হবে না। প্রশাসন, পুলিশ, জনপ্রতিনিধি সবাইকে বলছি, জিরো টলারেন্স নিশ্চিত করতে হবে। ফরিদপুর-১ আসন তথা আমার নির্বাচনী এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব।
তিনি আরও বলেন, দলমত ভুলে যান। আপনার ছেলে নেশা করলে বিএনপি-জামাত বা অন্য কোনো দলের পরিচয়ে তাকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। তাই এই যুদ্ধে সবাই এক হয়ে নামুন। প্রত্যেক ঘরে ঘরে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
মানববন্ধনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, পৌর বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলাম রিপন, সাধারণ সম্পাদক নুর জামান খসরু, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এস. এম. রিদওয়ানুন্নবী এবং সেক্রেটারি এস. এম. হাফিজুর রহমান, বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান প্রমুখ। এছাড়াও স্থানীয় অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, রাজনীতি পরে, আগে সন্তান বাঁচাই। মাদক কারবারী কোনো দলের হতে পারে না। এরা দেশের শত্রু, সমাজের শত্রু। এদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মাওলানা মো. তামিম আহমেদ। তাঁর শেষ ঘোষণা ছিল, আজকের পর আলফাডাঙ্গায় যদি একটা ইয়াবা ট্যাবলেটও পাওয়া যায়, তাহলে আমরা আবার রাস্তায় নামব। আর সেদিন প্রতিবাদ আরও কঠোর হবে।
মানববন্ধন শেষে দেশ, জাতি ও বিপথগামী যুবসমাজের হেদায়েতের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
What's Your Reaction?
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ