বোয়ালমারীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে আ'লীগ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে উপজেলার একমাত্র নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন সাবেক বিএনপির কয়েকজন নেতা।
শনিবার( ৯ মে) বিকাল ৩ ঘটিকায় পৌরসভাস্থ মাদ্রাসা মার্কেটে উপজেলার শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুকুল।
লিখিত বক্তব্য থেকে জানা যায়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রকৃত আদর্শের সৈনিক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পতাকা বহনকারী ত্যাগী ও প্রকৃত নেতাকর্মীরা আজ কোণঠাসা। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে নানাভাবে একাধিক হামলা মামলার শিকার হয়ে হয়রানি, শারিরীক, মানসিক, ব্যবসায়িক ও পারিবারিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় জাতীয়তাবাদী দল তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করলেও বোয়ালমারীর নিবেদিত বিএনপি নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ থেকে আগত নামধারী নব্য বিএনপি নেতা সাঁজা ব্যক্তিদের দ্বারা নানাবিধ হামলা, মামলা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছে।
বোয়ালমারী উপজেলার মধ্যে একমাত্র নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফ্যাসিস্ট কামাল আহমেদের নির্যাতনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে শেখর ইউনিয়ন বিএনপির প্রকৃত নেতাকর্মীরা। তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় এক কৃষকদল নেতার ছত্রছায়ায় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে চলেছেন সে। তিনি সম্প্রতি ১৭ মে মোড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও মো. সাকিবুর রহমানকে জিম্মি করে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং তার নির্যাতন সেলে জোরপূর্বক তাদের আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। পরবর্তী থানাপুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদেরকে উদ্ধার করে। এছাড়া শেখর গ্রামের ভাই-ভাইয়ের পারিবারিক দ্বন্দ্ববিরোধ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দায়ের করে চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ । ওই মামলায় উপজেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রইসুল ইসলাম পলাশসহ স্থানীয় বিএনপির বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। সম্প্রতি প্রায় ২শ বছরের ঐতিহ্যের ধারক আধ্যাত্মিক সাধক দেওয়ান শাগের শাহ্ (র.) ওরস উপলক্ষে বসা ঐতিহ্যবাহী কাটাগড়ের মেলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঁদাবাজি করেন তিনি। কথিত রয়েছে, মেলায় আগত দোকানপাট অবৈধ নিলামের মাধ্যমে ৩৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে কামাল আহমেদ ও তার অনুসারী কতিপয় স্থানীয় নেতারা এ মেলা থেকে আয়ের একটি বৃহৎ অংশ তিনি নিজে আত্মসাৎ করেন ও কাউকে কোনো প্রকার স্বচ্ছ হিসাব নিকাশ দেন নাই। কামাল আহমেদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা বাগডাঙ্গা গ্রামের সাজা কাজী ও বিপুল কাজী একই গ্রামের ফাহমিদা ইসলাম নামের এক মহিলাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তাদের বসতভিটার ৪০ হাজার টাকার গাছ কেটে নিয়ে যায় ও বাঁশ ঝাড়ে আগুন দিয়ে ২০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। পেশীশক্তি ব্যবহার করে কামাল আহমেদের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে ফাহমিদা ইসলামের জমি দখলের পায়তারা করছে। এ ঘটনায় ফাহমিদা ইসলাম বাদী হয়ে বোয়ালমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়া শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নে এক নব্য বিএনপি নেতার ছত্রছায়ায় একক আধিপত্য বিস্তারে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে কামাল আহমেদ। কামাল আহমেদের এই নির্যাতন ও হয়রানি থেকে মুক্তি চায় শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীর।
এছাড়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ থেকে আগত নব্য বিএনপি নেতাকর্মীরা বোয়ালমারী উপজেলা সদর বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। এতে স্থানীয় বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা হৃাস পাচ্ছে। এভাবে নব্য বিএনপির চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলতে থাকলে দলের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখা দিবে। তাই আপনাদের মাধ্যমে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, অচিরেই এই চাঁদাবাজদের লাগাম টানতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সবিনয় অনুরোধ করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান বাবু, বিএনপি নেতা মফিজুল কাদের খান মিল্টন, পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম কালা মিয়া, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. মনির হোসেন প্রমুখ।
What's Your Reaction?
জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ