জলঢাকায় গ্রামীণ ব্যাংক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা প্রতিনিধি, নীলফামারীঃ
May 9, 2026 - 23:02
জলঢাকায় গ্রামীণ ব্যাংক ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নীলফামারীর জলঢাকায় গ্রামীণ ব্যাংকের এক শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে জলঢাকা প্রেস ক্লাব সম্মেলন কক্ষে ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। অভিযুক্ত হামিদুল হক বর্তমানে গ্রামীণ ব্যাংকের জলঢাকা উপজেলার গোলনা শাখায় ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মর্জিনা খাতুন। তিনি তার বক্তব্যে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য তুলে ধরেন। 

লিখিত বক্তব্যে মর্জিনা খাতুন জানান, তার স্বামী মো. আমজাদ হোসেন গ্রামীণ ব্যাংকের নীলফামারী সদর থানাধীন রামগঞ্জ বাজার শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ওই শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক হামিদুল হকের সঙ্গে তাদের পারিবারিক সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুসম্পর্কের সুযোগ নিয়ে হামিদুল হক জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ এবং অফিসের অডিটের সময় ক্যাশ ঘাটতি পূরণের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে মর্জিনা খাতুন, তার স্বামী ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার হিসেবে সর্বমোট ২৩ লাখ ৩১ হাজার ১৮ টাকা গ্রহণ করেন। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অফিসের অডিটের সময় হিসাবের ক্যাশ ঘাটতি লুকাতে হামিদুল হক সহকর্মীদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন এবং ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে হিসাব সমন্বয় করতেন। এমনকি ব্যাংকের ব্যালেন্স সার্টিফিকেটেও হিসাবে গরমিল করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, হামিদুল হক কেবল এই পরিবারটিকেই নয়, বরং আরও অনেককে প্রতারিত করেছেন। তিনি ডা. হামিদুল ইসলামের কাছ থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং লক্ষ্মীচাপ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রঞ্জিত কুমার রায়ের কিস্তি বাবদ ৩৭ হাজার টাকা গ্রহণ করে তা শাখার হিসাবে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। 

মর্জিনা খাতুন আরও বলেন, "আমার স্বামী পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে শাখা ব্যবস্থাপক হামিদুল হক তাকে চাকুরিচ্যুত করার নানা ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি আমার স্বামী আমজাদ হোসেনকে মানসিকভাবে অসুস্থ সাজিয়ে শাস্তিমূলক বদলি ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করছেন।"

জানা যায়, মো. আমজাদ হোসেন ১৯৯৮ সালের ৩১ মে থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চাকরি করে আসছেন। কর্মদক্ষতার কারণে গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে গ্রামীণ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে অভিনন্দন পত্রও প্রেরণ করেন। কিন্তু বর্তমানে তাকে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা এরিয়া অফিসে ওএসডি (OSD) করে রাখা হয়েছে। পাওনা টাকার বিপরীতে গত ২১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে শাখা ব্যবস্থাপক হামিদুল হক তার নিজ নামীয় গ্রামীণ ব্যাংকের রামগঞ্জ হাট শাখার সঞ্চয়ী হিসাবের একটি চেকের মাধ্যমে ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করেন, যা পরবর্তীতে ব্যাংকে ডিজঅনার (বাউন্স) হয়।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে মর্জিনা খাতুন বলেন, "সুচতুর এই ব্যবস্থাপক আমাদের সারাজীবনের সঞ্চয় হাতিয়ে নিয়ে উল্টো আমাদের নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি দিচ্ছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানালেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকাজে বাধা সৃষ্টি করছেন।"

ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত পাওনা টাকা উদ্ধার এবং দুর্নীতিপরায়ণ শাখা ব্যবস্থাপক হামিদুল হকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য শরাফত আলী সরু, জরিনা বেগম, ছমেদা বেগম, সাহিদা বেগম ও শাহরিয়ার নাফিজ উপস্থিত ছিলেন। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাখা ব্যবস্থাপক হামিদুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, গ্রামীণ ব্যাংকের মতো একটি স্বনামধন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow