ক্ষমা না চেয়ে উল্টো বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে জামায়াত-শিবির: ছাত্রদল সভাপতি

অনলাইন ডেস্কঃ
Mar 26, 2026 - 14:37
ক্ষমা না চেয়ে উল্টো বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে জামায়াত-শিবির: ছাত্রদল সভাপতি

একাত্তরের বিতর্কিত ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চেয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির উল্টো নতুন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘জামায়াত-শিবির যেমন একাত্তরের ইতিহাসকে পাশ কাটিয়ে ভিন্ন পথে হাঁটার চেষ্টা করছে, তেমনি ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তিও জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে নিজেদের মতো করে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করতে পারে। এমন লক্ষ্মণ আমরা এখনই দেখতে পাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যাদের একাত্তরের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ, তারা আজ স্মৃতিসৌধে এসে বড় বড় কথা বলছে এবং স্লোগান দিচ্ছে। কিন্তু ২৫ মার্চের কালরাত্রি কিংবা নয় মাসের দীর্ঘ লড়াইয়ে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর যে নৃশংসতা ছিল, তা নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। ইতিহাস বিকৃত করে কেউ যদি নতুন কোনো বয়ান তৈরি করতে চায়, তবে তা জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হবে।’

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘যে স্বপ্ন নিয়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছিল, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন আজও হয়নি। ক্ষুধামুক্ত, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার পথে বারবার বাধা এসেছে। সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে দুই হাজারেরও বেশি ছাত্র-জনতা জীবন দিলেও আমরা এখনো স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ পাইনি। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন সংকট ও বাস্তবতা আমাদের সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে।’

ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের আহ্বান জানিয়ে রাকিব বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শক্তি বিদায় নেওয়ার পর এখন আমাদের উচিত ভেদাভেদ ভুলে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে কাজ করা। রাজনীতিতে যৌক্তিক বিরোধিতা থাকবে, কিন্তু সেই বিরোধিতা যেন কোনোভাবেই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব কিংবা স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।’

ইতিহাসের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি রাষ্ট্র বছরের পর বছর সত্য গোপন করে চলতে পারে না। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উচিত ইতিহাসের সত্যকে মেনে নিয়ে নিজেদের দায় স্বীকার করা। সত্যকে স্বীকার করে তারা রাজনীতি করুক, তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বিচ্যুতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান নিয়েও ইতিহাস বিকৃতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।’

এ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow