১৪ বছরেও মেলেনি স্থায়ী ক্যাম্পাস: শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

অনলাইন ডেস্কঃ
May 11, 2026 - 16:35
May 11, 2026 - 16:36
১৪ বছরেও মেলেনি স্থায়ী ক্যাম্পাস: শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী পাঠদান শুরুর দুই বছরের মধ্যে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ১৪ বছরেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি কিশোরগঞ্জের ‘ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’। এই দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদে এবং দ্রুত স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে আজ সোমবার (১১ মে) সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকাল ১০টা থেকে কিশোরগঞ্জ শহরের নীলগঞ্জ সড়কে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধ কর্মসূচির কারণে ব্যস্ততম এই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন পথচারী ও সাধারণ যাত্রীরা।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) র‍্যাঙ্কিংয়ে ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। এর ফলে তাদের অর্জিত সনদের মান এবং ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাসই দিয়ে আসছে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাঈদ সুমন বলেন, ‘স্থায়ী ক্যাম্পাস আমাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি। কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে এই দাবি এড়িয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ শুরু করে আমাদের জন্য সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’

একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী নওরিন সুলতানা ঊষা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এর আগেও আমাদের রাজপথে নামতে হয়েছে। তখন তড়িঘড়ি করে জমি কিনে সাইনবোর্ড লাগানো হলেও আজও সেখানে কোনো ভবন গড়ে ওঠেনি। আমরা প্রয়োজনে টিনশেড ঘরে ক্লাস করতে রাজি, তবুও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে চাই।’

এদিকে দীর্ঘক্ষণ সড়ক অবরোধ থাকায় নীলগঞ্জ সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ ও স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা রোদে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়। অটোরিকশা যাত্রী হারুন মিয়া ও অভিভাবক হ্যাপি জানান, দাবি কর্তৃপক্ষের কাছে হলেও রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়া কোনো সমাধান নয়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার চৌধুরী খায়রুল হাসান বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব জমি আছে। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে স্থায়ী ক্যাম্পাসের বিষয়ে জরুরি আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত জানাব। এর জন্য আমরা তিন দিন সময় চেয়েছি।’ 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে সড়ক ছেড়ে দিলেও তারা জানিয়েছেন, তিন দিনের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না দেখলে আবারও কঠোর আন্দোলনে নামবেন তারা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow