বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ-এর সমাধিতে বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষে সেক্টর কমান্ডারের শ্রদ্ধাঞ্জলি

রিপণ মারমা, কাপ্তাই প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটিঃ
২৬ মার্চ, ২০২৬ ৫:০৩ পিএম
শেয়ার করুন:
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ-এর সমাধিতে বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষে সেক্টর কমান্ডারের শ্রদ্ধাঞ্জলি

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দিবসটি উপলক্ষ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকারী বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ-এর সমাধিতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিস্থলে বিজিবি মহাপরিচালকের পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাঙ্গামাটি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম, এসইউপি, পিবিজিএম, পিএসসি।

শ্রদ্ধা নিবেদনকালে কাপ্তাই ব্যাটালিয়ন (৪১ বিজিবি)-এর একটি চৌকস ও সুসজ্জিত দল রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। বিউগলের করুণ সুরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু মোহাম্মদ সিদ্দিক আলম বলেন, “২৬ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবোজ্জ্বল ও অবিস্মরণীয় দিন। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের এই প্রিয় লাল-সবুজের পতাকা।”

তিনি আরও বলেন, “আমি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি এই বাহিনীর দুই বীরশ্রেষ্ঠ—শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ও শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফকে। সেই সাথে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী ৮১৭ জন বিজিবি সদস্যসহ সকল খেতাবপ্রাপ্ত বীর যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, যাঁদের ত্যাগে আজ আমরা স্বাধীন।”

বীরশ্রেষ্ঠের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল নানিয়ারচরের বুড়িঘাট এলাকায় প্রতিরক্ষা অবস্থানে থাকাকালীন মুন্সী আব্দুর রউফ একাই পাক হানাদার বাহিনীর দুটি লঞ্চ ও একটি স্পিডবোট ধ্বংস করেন। তাঁর অসীম সাহসিকতায় শত্রু বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল। সেই সম্মুখ সমরেই মর্টারের আঘাতে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

অনুষ্ঠানে কাপ্তাই ব্যাটালিয়নের (৪১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাওসার মেহেদী, সিগন্যালস্-সহ বিজিবির অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে বীরশ্রেষ্ঠের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।