ফরিদপুরে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের শরীরে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এক মর্মান্??
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এক মর্মান্তিক ও নিন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোহেল হোসেন (৩৫) নামে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের শরীরে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আক্তার খালাসির বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সোহেল হোসেন গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার সহস্রাইল বাজারে যান। সেখানে বাবলুর চায়ের দোকানে অবস্থানকালে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি অভিযুক্ত আক্তার খালাসিকে জড়িয়ে ধরেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত ব্যক্তি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে দোকানের চায়ের কেটলিতে থাকা ফুটন্ত গরম পানি সোহেল হোসেনের শরীরে ঢেলে দেওয়া হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
চিকিৎসকরা জানান, সোহেলের শরীরে গুরুতর দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। কর্তব্যরত এক চিকিৎসক বলেন,রোগীর শরীরের একাধিক অংশ পুড়ে গেছে। তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছেলের এমন করুণ অবস্থায় ভেঙে পড়েছেন মা মনোয়ারা বেগম। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,আমার ছেলে দুপুরে খেয়ে সহস্রাইল বাজারে গিয়েছিল। সেখানে আক্তার খালাসিকে জড়িয়ে ধরায় সে রাগ করে গরম পানি ঢেলে দেয়। আমার ছেলের শরীর পুড়ে গেছে। ডাক্তাররা ফরিদপুরে নিতে বলেছে, কিন্তু আমাদের তো সেই সামর্থ্য নেই—কিভাবে চিকিৎসা করাবো?
তার এই আর্তনাদ উপস্থিত সবার হৃদয় স্পর্শ করেছে।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির ওপর এমন নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন,ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। ভুক্তভোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত আক্তার খালাসির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং অসহায় ভুক্তভোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
What's Your Reaction?
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ