রাজেন্দ্র কলেজের পুকুর দখলের অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ৪:৫৩ পিএম
শেয়ার করুন:
রাজেন্দ্র কলেজের পুকুর দখলের অভিযোগ

ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের দৃষ্টিনন্দন পুকুরের একটি অংশ ভরাট করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।তবে অভিযুক্তদের দাবি, পৌরসভা থেকে লিজ নেওয়া জায়গায় তারা স্থাপনা নির্মাণ করছেন। কলেজের পুকুর ও পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কর্তৃপক্ষ। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের পূর্বপাশে বীর মুক্তিযোদ্ধা নওফেল গেটসংলগ্ন একটি বড় পুকুর রয়েছে। পুকুরের পূর্বপাশে বিভিন্ন সময়ে অন্তত চারটি ঝুপড়ি ও বাঁশ-খুঁটির টিনশেড দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি স্থানে মাটি ফেলে ভরাট করা হয়েছে। সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে আরসিসি পিলার বসানোর কাজ চলছিল এবং ইতোমধ্যে অন্তত পাঁচটি বড় গর্ত খোঁড়া হয়েছে।

২০১১ ও ২০১২ সালে সাবেক পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথুর স্বাক্ষরে ফরিদপুর পৌরসভা থেকে শাহীন তালুকদার ও মেহেদী হাসান শামীম তালুকদার নামে দুই ব্যক্তিকে লিজ দেওয়া হয়। তারা শহরের কমলাপুর কুঠিবাড়ী এলাকার মৃত শাহাজাহান তালুকদারের ছেলে। মেহেদী হাসান শামীম তালুকদার বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বলেন, শাহীন তালুকদার প্রতিবন্ধী এবং আমার প্রতিবেশী হওয়ায় তার অনুরোধে ঘরটি করে দিচ্ছি। তারা প্রায় ১২ বছর আগে লিজ নিয়েছেন। আমি তাদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে কাজ করছি। সবকিছু বৈধ কাগজপত্র অনুযায়ী করা হচ্ছে। আমরা কলেজের কোনো জায়গা দখল করছি না।

কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আবদুল হালিম অভিযোগ করেন, পৌরসভার লিজের বাইরে কলেজের জায়গাও দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আছি। সকালে বিষয়টি জানতে পেরে পৌর প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের মৌখিকভাবে জানিয়েছি। এখানে পাকা স্থাপনা হয়ে গেলে আর কিছু করার থাকবে না। এতে কলেজের সৌন্দর্য ও পুকুরের পরিবেশ নষ্ট হবে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অধ্যক্ষ বলেন, ওরা আমাকে ফোন করে বলেছে—বিগত ১৭ বছরে কিছু করতে পারিনি, এখন একটু সুযোগ দিতে হবে। শুনেছি ছাত্রদলের নেতারাও এতে জড়িত। এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌর প্রশাসক (স্থানীয় সরকারের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক) মো. সোহরাব হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পৌরসভা থেকে লোক পাঠানো হয়েছে। সেখানে একটি পুরোনো লিজের কাগজ দেখানো হয়েছে। আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ঈদের পর লিজের কাগজ যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।