পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ পর্যটনমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্কঃ
May 4, 2026 - 14:37
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ পর্যটনমন্ত্রীর

দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কক্সবাজারের মতো জনপ্রিয় স্থানগুলোকে আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চলমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। 

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী বলেন, এবারের সম্মেলনে মূল আলোচনার বিষয় ছিল বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ। দেশের প্রতিটি জেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সংস্কার এবং দর্শনার্থীদের কীভাবে আরও আকৃষ্ট করা যায়, তা নিয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। 

পর্যটন খাতের সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে মনপুরা এবং নেত্রকোনার মতো জায়গাগুলোতে পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমন আরও চার-পাঁচটা জেলার নাম আলোচনায় এসেছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলো যদি সুন্দর করে সাজানো যায়, তবে প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম হবে এবং দেশ সম্পর্কে মানুষের জানার পরিধি বাড়বে। মাঠ পর্যায় থেকে এ সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব এলে মন্ত্রণালয় তা বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করবে।’

পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়ে আফরোজা খানম বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আলোচনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব পেয়েছে। আগত দর্শনার্থীরা যেন কোনোভাবেই নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি রাখার জন্যও কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি।’

সেন্টমার্টিন দ্বীপ বছরের কিছু সময় বন্ধ রাখার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আজকের অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আলোচনা হয়নি। তবে মন্ত্রণালয় এটি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

দেশের পর্যটন খাতের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে এ খাতে আশানুরূপ কোনো কাজ হয়নি। তিনি বলেন, ‘পর্যটন খাত বর্তমানে সবচেয়ে রুগ্ন অবস্থায় রয়েছে। আমরা এটিকে একটি ভালো অবস্থানে নিতে চাই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চাচ্ছেন পর্যটনকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পে পরিণত করতে। আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বেসরকারি খাত থেকে কেউ যদি এই খাতে বিনিয়োগ বা সহযোগিতা করতে আগ্রহী হন, তবে তাদেরও স্বাগত জানানো হবে।’

এভিয়েশন বা বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, যেসব জেলায় বিমানবন্দর রয়েছে সেগুলোর মানোন্নয়নে কাজ চলছে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আরও উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও এবং বগুড়ায় বিমানবন্দর চালুর সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। আগামী ৭ মে বগুড়া সফরে গিয়ে তিনি সেখানকার পরিস্থিতি সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন।

বগুড়ায় বিমানবন্দর নির্মাণের পাশাপাশি সেখানে একটি ‘ফ্লাইং একাডেমি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান পর্যটনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘দেশে পাইলটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা চাই এমন সুযোগ তৈরি করতে, যাতে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাও পাইলট হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow