ফরিদপুরের সদরপুরে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট
ফরিদপুরের সদরপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পেট্রোল পাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে। তেলের দাম বৃদ্ধির আগাম গুজবে পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও ‘তেল নেই’ অজুহাতে বিক্রি বন্ধ রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক, পরিবহন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, তেল নিতে আসা শত শত গ্রাহকের দীর্ঘ সারি। তবে প্রতিটি পাম্পের চিত্র একই—‘তেল নেই’। পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ নেই। অথচ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, পাম্পগুলোর ভূগর্ভস্থ ট্যাংকে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। মূলত আগামীতে তেলের দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় অধিক মুনাফার লোভে মালিকরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক রহমত উল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সকাল থেকে তিনটি পাম্প ঘুরেছি, সবাই একই কথা বলছে তেল নেই। অথচ পাম্পের ভেতরে তেলের তীব্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এটি পুরোপুরি একটি পরিকল্পিত সিন্ডিকেট। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তারা বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছে।"
এদিকে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় পরিবহন খাত। অনেক যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক জ্বালানি সংকটে রাস্তায় আটকা পড়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। সেচ কাজে ব্যবহৃত মেশিনের জন্য ডিজেল সংগ্রহ করতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে কৃষকদের।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় পাম্প মালিকরা এমন সিন্ডিকেট করার সাহস পাচ্ছেন। অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে মজুতদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে পাম্প মালিকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা বরাবরের মতোই সাপ্লাই সংকটের কথা বলে এড়িয়ে যান। তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না হলে সদরপুরের সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা ও কৃষি কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সদরপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
What's Your Reaction?
নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ