বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সব ধ্বংসের পথ বেছে নেবে তেহরান

অনলাইন ডেস্কঃ
Mar 9, 2026 - 22:06
বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সব ধ্বংসের পথ বেছে নেবে তেহরান

ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দ্বিতীয় পুত্র মুজতবা খামেনি এখন নতুন সর্বোচ্চ নেতা। নেতৃত্বের এই পালাবদলের সঙ্গেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের রণকৌশলে দেখা দিয়েছে এক ভয়াবহ ও আক্রমণাত্মক রূপ, যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

কিংস কলেজ লন্ডনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ের প্রভাষক রব গিস্ট পিনফোল্ডের মতে, ইরান বর্তমানে যে রণকৌশল অবলম্বন করছে, তা কোনো ভুল বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সুপরিকল্পিত। অতীতে ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করলেও, বর্তমান নেতৃত্ব সরাসরি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পথ বেছে নিয়েছে। তাদের লক্ষ্য—বিশ্ব অর্থনীতি এবং জিসিসি (উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ)ভুক্ত দেশগুলোকে চরম অস্থিতিশীল করে তোলা, যাতে চাপে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য হয়।

ইরানের এই উচ্চঝুঁকিপূর্ণ নীতিতে সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে পড়েছে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ওমানের মতো দেশগুলো। হরমুজ প্রণালি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ায় এবং আকাশপথে বিঘ্ন ঘটায় এই দেশগুলোর আমদানি-নির্ভর অর্থনীতি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, যুদ্ধের উত্তাপ বাড়লে ইরান তাদের সবচেয়ে ভয়াবহ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে ‘ওয়াটার কার্ড’। পারস্য উপসাগরীয় উপকূলে থাকা ৪০০টিরও বেশি পানি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট এখন চরম ঝুঁকিতে। লেডেন ইউনিভার্সিটির গবেষক ও মোহাম্মদ মাহমুদের মতে, সৌদি আরব, কুয়েত ও আমিরাতের মতো দেশগুলো পানীয় জলের জন্য প্রায় পুরোপুরি সমুদ্রের পানির ওপর নির্ভরশীল। ইরান যদি এই অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে তা পুরো অঞ্চলে নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।

উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের খাদ্য চাহিদার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটায়। কিন্তু যুদ্ধপরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় জরুরি খাদ্য মজুতও দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ডেইরি শিল্পের মতো খাতগুলোতে পশুখাদ্যের অভাব দেখা দিলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে। জাহাজ চলাচল ও বিমান চলাচলে ঝুঁকি বাড়ায় বিমা খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের দামে।

এখন পর্যন্ত ইরান পানি শোধনাগার বা বড় কোনো মানবিক অবকাঠামোয় সরাসরি হামলা না চালিয়ে জ্বালানি স্থাপনা ও মার্কিন রাডার লক্ষ্য করেই তাদের ক্ষোভ সীমাবদ্ধ রেখেছে। গত শুক্রবার বাহরাইনের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ইরানের হামলা তারই প্রমাণ। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমান নেতৃত্বের কাছে এটি এখন ‘জীবন-মরণ’ লড়াই। ফলে যুদ্ধের দামামা আরও বাড়লে ইরান যে কোনো সময় তাদের চূড়ান্ত ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকে ঠেলে দেবে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow