জেলা পরিষদের ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ
বান্দরবানের থানচি উপজেলায় পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মাণাধীন বেশ কয়েকটি ভবনের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ঝিরি থেকে সংগৃহীত অপরিপক্ক পাথর ও ময়লাযুক্ত বালু দিয়ে পিলারের ভিত্তি কাঠামো তৈরি করায় এসব স্থাপনার স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জেলা পরিষদের অর্থায়নে থানচি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি আধা-পাক্কা ও পাক্কা ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— তিন্দু ইউনিয়নের মানলুং হেডম্যান পাড়া কালেকশন পয়েন্ট, থানচি সদর ইউনিয়নের নাইন্দারী পাড়া খুমি ছাত্রাবাস, মৈত্রী শিশু সদনের ছাত্রাবাস, বলীপাড়া ইউনিয়নের মংনাই পাড়া লাইব্রেরি এবং বলীপাড়া পাবলিক টয়লেট।
অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা থোয়াইহ্লামং মারমার আপন ছোট ভাই সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি থোয়াইপ্রুঅং মারমাকে এসব কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি অপর এক আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টু দেবকে সঙ্গে নিয়ে গত এপ্রিল মাস থেকে প্রকৌশল বিভাগের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মংওয়েচিং মারমার উপস্থিতিতে লিন্টেল ও পিলার তৈরির কাজ শুরু করেন।
সরেজমিনে তদন্তে জানা যায়, নির্মাণ কাজে স্থানীয়দের বাধা ও ক্ষোভ সামাল দিতে এক অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন ঠিকাদার। নির্মাণ শ্রমিকদের সর্দার মোহাম্মদ রিপন (৩০) জানান, সাইট মাঝি থোয়াইপ্রু মারমা গ্রামবাসীদের ১৫ কেজি জিলাপি খাইয়ে শান্ত করেন এবং স্থানীয় ঝিরি থেকে নিম্নমানের পাথর ও ময়লা বালু উত্তোলনের অনুমতি নেন। বর্তমানে সেই বালু ও পাথর দিয়েই ২৮টি পিলারের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। শ্রমিকরা জানান, ঠিকাদার যেমন সামগ্রী সরবরাহ করছেন, তারা সেভাবেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মানলুং পাড়ার কারবারী রেংতলাইন খুমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ঠিকাদার থোয়াইপ্রুঅং মারমা আমাদের বলেছিলেন, স্থানীয় পাথর ও বালু ব্যবহার করতে না দিলে বরাদ্দকৃত সব টাকা ফেরত যাবে। এ কথা শুনে এবং ১৫ কেজি জিলাপি খেয়ে গ্রামবাসী রাজি হয়েছিল। কিন্তু এখন দেখছি পিলারের মান খুবই খারাপ।" মৌজা হেডম্যান হৈসাই খুমি বলেন, "সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাই হওয়ায় ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না।"
এ বিষয়ে সাইট তদারকি প্রকৌশলী মংওয়েচিং মারমা বলেন, "কার্যাদেশ ও চুক্তিনামায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে স্থানীয় পাথর বা বালু ব্যবহার করা যাবে না। সরেজমিনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদার থোয়াইপ্রুঅং মারমা দাবি করেন, জেলা পরিষদে তার নামে কোনো প্রকল্প নেই এবং এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। অপর অংশীদার মিন্টু দেবের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
জেলা পরিষদ সদস্য খামলাই ম্রো জানান, নির্মাণ কাজে কোনোভাবেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার বরদাশত করা হবে না। তবে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থানজামা লুসাইয়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি অর্থের এই অপচয় রোধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং মানসম্মত নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে পুনরায় কাজ সম্পন্ন করা হোক।
What's Your Reaction?
অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ