কেরালায় মুসলিম তরুণীর কাছে হারলেন ক্ষমতাসীন বাম জোটের প্রধান
ভারতের কেরালার নির্বাচনী রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) তরুণ নেত্রী ফাতিমা তাহলিয়া। গত সোমবার ঘোষিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে তিনি কেবল বিজয়ীই হননি, বরং দলটির ইতিহাসে প্রথম নারী বিধায়ক (এমএলএ) হিসেবে নিজের নাম খোদাই করেছেন। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন বাম জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতাকে পরাজিত করে তিনি এখন কেরালা রাজনীতির নতুন ‘জায়ান্ট কিলার’।
ফাতিমা তাহলিয়া কোজিকোড জেলার পেরাম্ব্রা আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনটি দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে অর্থাৎ ১৯৮০ সাল থেকে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মার্ক্সবাদী) অজেয় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই শক্ত ঘাঁটিতে হানা দিয়ে ফাতিমা পরাজিত করেছেন কেরালার ক্ষমতাসীন লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এলডিএফ) আহ্বায়ক টিপি রামকৃষ্ণনকে। একজন হেভিওয়েট নেতাকে হারিয়ে তাঁর এই বিজয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বড় ধরনের চমক হিসেবে দেখছেন।
পেশায় আইনজীবী ফাতিমা তাহলিয়া রাজনীতির মাঠে বেশ পরিচিত মুখ। তিনি এর আগে কোঝিকোড মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের কাউন্সিলর হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের নির্বাচনে আইইউএমএল যে ২৭ জন প্রার্থী দিয়েছিল, তার মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন মাত্র দুজন। সেই চ্যালেঞ্জ জয় করে ফাতিমা প্রথম কোনো নারী হিসেবে মুসলিম লীগের টিকিটে বিধানসভায় জায়গা করে নিলেন।
**দলের ভেতরেই লড়েছেন সংস্কারের জন্য**
ফাতিমা তাহলিয়া কেবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নয়, নিজের দলের ভেতরেও লিঙ্গ সমতা ও সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। ২০১২ সালে তিনি মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এমএসএফ) নারী শাখা ‘হারিথা’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর প্রতিষ্ঠাতা রাজ্য সভাপতি ছিলেন। ছাত্ররাজনীতিতে নারীদের জায়গা তৈরিতে তাঁর ভূমিকা অনবদ্য।
পরবর্তী সময়ে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠলে তিনি দমে না গিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানান। এর ফলে তাঁকে এমএসএফ-এর জাতীয় সহসভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং হারিথা কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর সেই আপসহীন অবস্থানই আজ তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।
বর্তমানে মুসলিম ইয়ুথ লীগের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফাতিমা তাহলিয়া কেরালায় এক নতুন প্রজন্মের রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি কেবল স্পষ্টভাষীই নন, বরং দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং রাজনীতিতে নারীর মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার লড়াইয়ে একজন অগ্রসেনানী।
পেরাম্ব্রার এই বিজয় কেবল একটি আসনের জয় নয়, বরং এটি কেরালার রক্ষণশীল রাজনীতির পরিবর্তনের এক শক্তিশালী বার্তা। ফাতিমার এই ঐতিহাসিক যাত্রা আগামীতে আইইউএমএল এবং কেরালার রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ