বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে স্বাস্থ্যসেবা: সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম পেল ৬৫ শিক্ষার্থী
মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা কেওক্রাডং পাহাড়ের পাদদেশের গ্রামগুলো অত্যন্ত দুর্গম। এসব এলাকায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই সংকট নিরসনে বান্দরবানের রুমা উপজেলার ৪০টি দুর্গম পাড়ার ৬৫ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার প্রশিক্ষণ দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সোমবার রুমা জোন সদর দপ্তরে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব শিক্ষার্থীর হাতে ফার্স্ট এইড বক্স, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রয়োজনীয় ওষুধ তুলে দেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেওক্রাডংয়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রত্যন্ত গ্রাম সুংসং পাড়াসহ আশপাশের অনেক গ্রামেই বর্তমানে যোগাযোগের কিছুটা ব্যবস্থা থাকলেও আধুনিক চিকিৎসাসেবা এখনো পৌঁছায়নি। সামান্য অসুস্থ হলেও এখানকার বাসিন্দাদের বিপদসংকুল পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে রুমা উপজেলা সদরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। এমনও কিছু দুর্গম গ্রাম রয়েছে, যেখান থেকে পায়ে হেঁটে হাসপাতালে পৌঁছাতে পুরো এক দিন সময় লেগে যায়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এসব এলাকার মানুষ।
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর এই স্বাস্থ্য সংকট দূর করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রুমা উপজেলার ৪০টি পাড়া থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থীকে বাছাই করে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার সেনাবাহিনীর রুমা জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধভর্তি ফার্স্ট এইড বক্স তুলে দেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এই উদ্যোগের ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ এখন থেকে নিজ গ্রামেই জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পাবেন। ফার্স্ট এইড বক্সে বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধও দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এখন থেকে পড়ালেখার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ভূমিকা রাখবেন।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গম এলাকার মানুষ যেন অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামীতে এসব দুর্গম পাহাড়িপল্লিতে প্রয়োজনীয় ওষুধের ফার্মেসি গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
What's Your Reaction?
অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ