পদোন্নতি বা পছন্দের পোস্টিংয়ের লোভে পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করবেন না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্কঃ
May 3, 2026 - 14:31
পদোন্নতি বা পছন্দের পোস্টিংয়ের লোভে পেশাদারিত্বের সঙ্গে আপস করবেন না: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোববার থেকে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের আগে প্রধানমন্ত্রী প্রথাগত প্রটোকল ভেঙে সচিবালয় থেকে পায়ে হেঁটে সম্মেলনস্থলে পৌঁছান। তাঁর এই সাধারণ চলন দেখে রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমান উৎসুক সাধারণ মানুষ এবং প্রধানমন্ত্রীও অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে হাত নেড়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের ওপর কঠোর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, শুধু পদোন্নতি বা পছন্দের জায়গায় পোস্টিং পাওয়ার লোভে পেশাদারত্বের সঙ্গে আপস করলে তা সার্বিকভাবে প্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জনপ্রশাসনের প্রতিটি পদকেই গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য মনে করে কর্মকর্তাদের দেশের যেকোনো স্থানে কাজ করার মানসিকতা রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, কোনো সরকার বা কোনো পদই চিরস্থায়ী নয়, তাই জনসেবাকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, সরকার দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং বিশাল ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনায় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পেশাদারত্বের প্রশংসা করে বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে জনপ্রশাসন চাইলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারে। এছাড়া তিনি ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে সরকারের দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ১০ দফার একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এর মধ্যে রয়েছে—বাজার সিন্ডিকেট দমন করে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচিতে জনগণকে সম্পৃক্ত করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবাকে হয়রানিমুক্ত করা। এছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিবাহ রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দল-মতনির্বিশেষে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

আগামী ৬ মে পর্যন্ত চলমান এই সম্মেলনে ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত থাকছেন। চার দিনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow