তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে ‘ইঁদুর’ বলল চীন, বেইজিংকে ‘মাছের ব্যাপারী’ ডাকল তাইপে

অনলাইন ডেস্কঃ
May 3, 2026 - 11:49
May 3, 2026 - 11:49
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে ‘ইঁদুর’ বলল চীন, বেইজিংকে ‘মাছের ব্যাপারী’ ডাকল তাইপে

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সাম্প্রতিক আফ্রিকা সফরকে কেন্দ্র করে চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক বাগ্‌যুদ্ধ শুরু হয়েছে। বেইজিং তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে 'রাস্তার ইঁদুরের' সঙ্গে তুলনা করেছে। এর কড়া জবাবে তাইপেও ছেড়ে দেয়নি, তারা চীনের মন্তব্যকে 'মাছের ব্যাপারীর মতো অশালীন' বলে আখ্যায়িত করেছে।

আফ্রিকার দেশ কিংডম অব ইসওয়াতিনির রাজা তৃতীয় মাসাওয়াতির সিংহাসন আরোহণের ৪০তম বার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গত শনিবার সেখানে যান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। সফরকালে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পূর্ণ অধিকার তাইওয়ানের রয়েছে এবং কোনো দেশ তা ঠেকাতে পারবে না। 

রোববার তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে লাই চিং-তে বলেন, ‘রিপাবলিক অব চায়না তথা তাইওয়ান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাইওয়ানের ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের বিশ্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার অধিকার রয়েছে। তারা বিশ্বমঞ্চে যে অবদান রাখতে চায়, তাতে বাধা দেওয়ার অধিকার কোনো দেশের নেই, আর থাকা উচিতও নয়।’

উল্লেখ্য, চীন বরাবরই তাইওয়ানকে নিজেদের মূল ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে। বেইজিংয়ের মতে, অন্য কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের কোনো অধিকার তাইওয়ানের নেই। বর্তমানে বিশ্বে মাত্র ১২টি দেশ তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়, যার মধ্যে ইসওয়াতিনি অন্যতম। 

জানা গেছে, গত মাসে প্রেসিডেন্ট লাইয়ের এই সফর বানচাল করতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছিল চীন। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তিনটি দেশকে চাপ দিয়ে লাইকে বহনকারী বিমানের আকাশসীমা ব্যবহারের (ওভারফ্লাইট) অনুমতি বাতিল করতে বাধ্য করেছিল বেইজিং। 

এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে আগে থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিয়েই শনিবার ইসওয়াতিনি সরকারের একটি বিশেষ বিমানে সেখানে পৌঁছান লাই। তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাইরের হস্তক্ষেপ এড়াতে ‘আগে পৌঁছে পরে ঘোষণা দেওয়া’র কৌশলটি প্রায়ই ব্যবহার করা হয়।

তবে এই গোপন সফরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চীন। শনিবার রাতে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘লাই চিং-তের এই ঘৃণ্য আচরণ অনেকটা রাস্তায় ইতিউতি দৌড়াতে থাকা ইঁদুরের মতো, যা আন্তর্জাতিক মহলে অবধারিতভাবে উপহাসের মুখে পড়বে।’

চীনের এমন তীর্যক মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে তাইওয়ানের চীন-নীতি নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট কোথায় যাবেন বা কার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন, তার জন্য বেইজিংয়ের অনুমতির কোনো প্রয়োজন নেই। চীনের এই আচরণকে অত্যন্ত বিরক্তিকর উল্লেখ করে তারা বলেছে, ‘চীনের তাইওয়ান অ্যাফেয়ার্স অফিসের ভাষা মাছের ব্যাপারীর মতো অশালীন।’ 

এই সফর ও পাল্টা বাগ্‌যুদ্ধ চীন-তাইওয়ান সম্পর্ককে আরও এক ধাপ উত্তপ্ত করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow