নেত্রকোনায় ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক সাগর গ্রেপ্তার
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচিত সেই প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। বুধবার (৬ মে) ভোররাত ৪টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী ওই শিশুটি তার লালসার শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর থেকেই শিক্ষক সাগর পলাতক ছিলেন। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি হয় এবং ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে পড়ে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
র্যাব-১৪-এর একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে গৌরীপুরে অভিযান চালিয়ে সাগরকে আটক করতে সক্ষম হয়। র্যাব জানায়, আসামি বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে আজ দুপুর ১২টায় ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে র্যাব-১৪-এর অধিনায়ক বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ তরিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, "র্যাব-১৪ ভোরে আসামিকে আটক করেছে। প্রেস ব্রিফিং শেষে তাকে আমাদের (মদন থানা) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আমরা প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব আসামিকে নেত্রকোনা জেলহাজতে প্রেরণের ব্যবস্থা করব।"
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
What's Your Reaction?
জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনাঃ