নদীভাঙনের পর কালবৈশাখীতেও সর্বস্বান্ত জসিম, খোলা আকাশের নিচে কাটছে দিন-রাত

রিপন মজুমদার, জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালিঃ
May 2, 2026 - 19:10
May 2, 2026 - 19:10
নদীভাঙনের পর কালবৈশাখীতেও সর্বস্বান্ত জসিম, খোলা আকাশের নিচে কাটছে দিন-রাত

রাক্ষুসী মেঘনার ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর পর বহু কষ্টে গড়া শেষ আশ্রয়টুকুও কালবৈশাখী ঝড়ে হারিয়েছেন সুবর্ণচরের কৃষক জসিম উদ্দিন। মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁইটুকু হারিয়ে বর্তমানে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। 

জানা যায়, নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের জীবনে দুর্যোগের হানা এটিই প্রথম নয়। মেঘনার ভাঙনে একসময় নিজের সব হারিয়ে অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। পরে সেখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কারণে আবারও উদ্বাস্তু হতে হয় তাকে। সর্বশেষ কোনো উপায় না পেয়ে বেড়িবাঁধের পাশেই খাস জমিতে টিন ও বাঁশ দিয়ে একটি ছোট্ট ঘর তুলে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন বুনছিলেন এই কৃষক। 

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় মুহূর্তেই ধূলিসাৎ করে দেয় তার সেই ঘর। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জসিমের বসতঘরের স্থানে পড়ে আছে কেবল দুমড়েমুচড়ে যাওয়া টিন, ভাঙা বাঁশ আর ধ্বংসস্তূপ। 

ঘটনার পর চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা জোটেনি এই অসহায় পরিবারের ভাগ্যে। মাথা গোঁজার ঠাঁই না থাকায় রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে খোলা আকাশের নিচেই দিন কাটছে তাদের। 

নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহানো জসিম উদ্দিনের স্ত্রী অজিবা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের থাকার মতো আর কোনো জায়গা রইল না। যেটুকু সম্বল ছিল, ঝড় সেটাও শেষ করে দিল। এখন রাতে ঘুমাতেও পারি না, খোলা আকাশের নিচে বসে বসেই নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়।"

হতাশাগ্রস্ত জসিম উদ্দিন বলেন, "নদী আমাদের ভিটেমাটি গিলে খেয়েছে, বেড়িবাঁধের সময়ও আশ্রয় হারিয়েছি। শেষমেশ এই ছোট ঘরটাই আমাদের একমাত্র ভরসা ছিল। কালবৈশাখী সেটাও কেড়ে নিল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব, কিছুই বুঝতে পারছি না।"

স্থানীয়রা জানান, উপকূলীয় এলাকায় এমন বহু পরিবার প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে টিকে আছে। তবে একের পর এক দুর্যোগ জসিমের মতো মানুষদের জীবনকে চরম অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির জন্য দ্রুত একটি নিরাপদ ও স্থায়ী আশ্রয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। 

এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "ঘটনাটি আমি শুনেছি। খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow