১৪ বছর পরও অটুট বন্ধুত্ব: আলফাডাঙ্গার জাটিগ্রাম হাইস্কুল মাঠে ঈদের রঙে রঙিন মহামিলন
সময় পেরিয়েছে এক যুগেরও বেশি, তবুও বন্ধুত্বের রঙ একটুও ফিকে হয়নি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদের দিন ও পরের দিন রবিবার ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার জাটিগ্রাম হাইস্কুল মাঠে বসেছিল এক বর্ণিল, প্রাণবন্ত ও হৃদয়ছোঁয়া মিলনমেলা,যেখানে ১৪ বছর পর একত্রিত হন স্কুল জীবনের প্রিয় বন্ধুরা।
মাঠজুড়ে ছিল হাসি, গল্প, স্মৃতিচারণ আর আনন্দের উচ্ছ্বাস। কেউ ব্যস্ত ছবি তুলতে, কেউ প্রাণখোলা আড্ডায়, আবার কেউ অংশ নেয় নানা খেলাধুলায়। যেন ফিরে পাওয়া সেই স্কুল জীবনের সোনালি দিনগুলো—সময় বদলেছে, কিন্তু অনুভূতি রয়ে গেছে আগের মতোই নির্মল ও উজ্জ্বল।
দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় জমজমাট খেলাধুলা প্রতিযোগিতা। এতে বিজয়ী ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি বন্ধুর হাতে তুলে দেওয়া হয় স্মারক উপহার—যা এই বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় ও স্মরণীয় করে তোলে।
দুপুরে আয়োজন করা হয় একসঙ্গে আনন্দঘন ভোজ, আর ঈদের রাতের নীরবতায় অনুষ্ঠিত হয় হৃদয়ছোঁয়া নৈশভোজ। খাবার আর আড্ডার এই মেলবন্ধনে তৈরি হয় এক অনন্য আবহ—যেখানে আনন্দ আর আবেগ মিলেমিশে একাকার হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট সাংবাদিক মিয়া রাকিবুল ইসলাম বলেন,বন্ধুত্ব এমন এক সম্পর্ক, যা সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না—বরং আরও গভীর হয়। এমন আয়োজন আমাদের সেই সম্পর্ককে নতুন করে প্রাণ দেয়।
এছাড়া বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশিকুর রহমান (হৃদয় আশিক) বলেন,ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক কিছু হারিয়ে ফেলি, কিন্তু সত্যিকারের বন্ধুত্ব কখনো হারায় না। আজকের এই মিলনমেলা তারই উজ্জ্বল প্রমাণ।
অংশগ্রহণকারীদের আবেগঘন অনুভূতি ১৪ বছর পার হলেও আড্ডাটা সেই আগের মতোই আছে। স্মৃতির পাতায় ধুলো জমলেও বন্ধুত্বের রঙ আজও অমলিন। এমন ঈদ, এমন বন্ধুত্ব—এটাই আমাদের জীবনের সেরা পাওয়া।
দুই দিনের এই আয়োজন শুধু আনন্দেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি হয়ে উঠেছে এক আবেগময় পুনর্মিলনী, যা দীর্ঘদিন সবার হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।
সবশেষে ঈদ মানেই শুধু উৎসব নয়, ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের এক চিরসবুজ, চিরঅমলিন বন্ধন।
What's Your Reaction?
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ