সম্মান না পেলে বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি ইরানের
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ ঘনিয়ে এলেও ইরানকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মেঘ যেন কাটছেই না। আসন্ন এই বিশ্বমঞ্চে সম্মানজনক পরিবেশ এবং খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত না হলে টুর্নামেন্ট বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ফুটবল ফেডারেশন অব ইরানের সভাপতি মেহদি তাজ সরাসরি জানিয়েছেন, সম্মানহানি হলে তারা বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে দ্বিধাবোধ করবেন না।
বুধবার তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেহদি তাজ বলেন, "আমরা ফিফার কাছে আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশা ও দাবির কথা জানাব। ফিফা যদি সেসব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান দিতে পারে, তবেই আমরা বিশ্বকাপে অংশ নেব। আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা বা জাতীয় মর্যাদাকে আঘাত করার অধিকার কারও নেই। যদি অসম্মানজনক আচরণ অব্যাহত থাকে কিংবা আমাদের খেলোয়াড়দের অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, তবে আমরা বিকল্প পথে হাঁটতে বাধ্য হব।"
এই উত্তেজনার সূত্রপাত সম্প্রতি সহ-আয়োজক দেশ কানাডার একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। ইরানের ফুটবল প্রধান মেহদি তাজকে নিজ দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি কানাডা। কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে তাঁর অতীতের সম্পৃক্ততা। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।
বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, "ইরান দল কোনো দ্বিপাক্ষিক সফরে যাচ্ছে না, তারা যাচ্ছে ফিফার বিশ্ব আসরে অংশ নিতে। আয়োজক দেশ হিসেবে প্রয়োজনীয় ভিসা প্রদান এবং সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা ফিফার নিয়মের অধীনে একটি স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা। এখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের কোনো সুযোগ নেই।"
এমন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও থেমে নেই ইরানের মাঠের প্রস্তুতি। প্রধান কোচ আমির ঘালেনোই জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করা হবে। তুরস্কে বিশেষ ক্যাম্প শেষে চূড়ান্ত ২৬ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাবে দলটি।
বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী ‘জি’ গ্রুপে রয়েছে ইরান। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা। একই ভেন্যুতে ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে এশিয়ান জায়ান্টদের। তবে মাঠের লড়াই শেষ পর্যন্ত শুরু হবে কি না, তা এখন নির্ভর করছে ফিফা ও আয়োজক দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ