পোড়াস্তুপ পরিষ্কার করে রান্না শুরু করেছে বিথী, খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন
ফরিদপুরের সালথায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিন কৃষকের বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ভাওয়াল পশ্চিত পাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সালথা ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ও স্থানীয়রা মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে সবকিছু শেষ।
আগুনে ওই গ্রামের কৃষক মো. আনারুল মাতুব্বর, শহিদ মাতুব্বর ও আতিক মাতুব্বরের তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। সঙ্গে তাদের তিনটি রান্নাঘরও ধ্বংস হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এতে অন্তত ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার পরের দিন বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। যেখানে একদিন ছিল সাজানো-গোছানো সংসার, সেখানে এখন শুধু পোড়া কাঠ, টিন আর ছাইয়ের স্তূপ। সেই ছাই সরিয়েই জীবনযুদ্ধ আবার শুরু করার চেষ্টা করছেন শহিদ মাতুব্বরের স্ত্রী বিথী বেগম।
খোলা আকাশের নিচে, পোড়া ভাঙা পাতিলেই রান্না বসিয়েছেন তিনি। পাশে বসে আছে তার ছোট ছোট সন্তানরা চোখে আতঙ্ক, মুখে অনিশ্চয়তা। ঈদকে সামনে রেখে যখন সারা দেশের মানুষ আনন্দে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এই পরিবারগুলোর কপালে নেমে এসেছে সীমাহীন দুর্ভোগ।
বিথী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই রক্ষা করতে পারিনি। বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় থাকবো, কী খাবো কিছুই বুঝতে পারছি না।
একই অবস্থা অন্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোরও। তারা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন, রাত কাটাচ্ছেন অনিশ্চয়তায়। নেই কোনো ঘুমানোর জায়গা, নেই পর্যাপ্ত খাবার বা পোশাক।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করেই রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। দাহ্য বস্তু থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একে একে তিনটি বসতঘর গ্রাস করে।
সালথা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার মো. আব্দুল জলিল বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। তবে এর আগেই তিনটি সেমিপাকা ঘর ও তিনটি রান্নাঘর পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রান্নাঘর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
What's Your Reaction?
জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ