সদরপুরে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা: চড়া মূল্য উপেক্ষা করেই ক্রেতাদের ভিড়

নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
Mar 16, 2026 - 22:58
সদরপুরে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা: চড়া মূল্য উপেক্ষা করেই ক্রেতাদের ভিড়

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা সদরের বিপণিবিতানগুলোতে এখন শেষ মুহূর্তের কেনাকাটার ধুম পড়েছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিটি দোকানে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রোজার শুরুর দিকে বেচাকেনা কিছুটা কম থাকলেও দ্বিতীয় দশকের পর থেকেই জমে উঠেছে ঈদবাজার। এখন জামাকাপড়ের পাশাপাশি গহনা, জুতা-স্যান্ডেল ও কসমেটিকসের দোকানেও ক্রেতাদের ব্যাপক ভিড় দেখা যাচ্ছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে প্রতিটি মার্কেট এলাকায় কেনাকাটার ব্যস্ততা তুঙ্গে উঠছে। উপজেলা সদরের মুফতি মার্ট, নবরূপা, শতরূপা, রূপসাগর, কাজী আনিসউদ্দীন সিটি, গ্রেটম্যান ও ফাইভস্টারসহ বিভিন্ন শপিং কমপ্লেক্স ও ফুটপাতে চলছে কেনাকাটার উৎসব।

সোমবার (১৬ মার্চ) সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা যায়, তরুণী ও নারীদের কাছে পাকিস্তানি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের থ্রি-পিসের চাহিদা এবার সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে খুররম, মান্নাত, আশিকী, দেওয়ানা ও বেতাবী নামের থ্রি-পিসগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, এসব থ্রি-পিস ২ হাজার থেকে শুরু করে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

কাজী আনিসউদ্দীন সিটির ব্যবসায়ী মিরাজ মিয়া জানান, ভোর থেকেই ক্রেতারা মার্কেটে আসছেন। এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় বেচাকেনা বেশ ভালো। রূপসাগর মার্কেটের বিক্রেতারাও একই মত প্রকাশ করে জানান, বাজারে ভারতীয় থ্রি-পিসের তুলনায় পাকিস্তানি থ্রি-পিসের আধিপত্য বেশি, আর ক্রেতারাও সেগুলোই বেশি কিনছেন।

কেনাকাটা করতে আসা গৃহবধূ শিরিন আক্তার বলেন, "গতবারের তুলনায় এবার পোশাকের দাম তুলনামূলক অনেক বেশি। তবুও সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে বাড়তি দামেই কেনাকাটা করতে হচ্ছে।" রুমা নামের আরেক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, "বাজারে ভারতীয় থ্রি-পিস কম থাকায় পাকিস্তানি থ্রি-পিসের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, আর সেগুলোর দামও আকাশচুম্বী।"

পাঞ্জাবি, পায়জামা, শাড়ি, লেহেঙ্গা, বাচ্চাদের পোশাক, প্যান্ট, শার্ট ও টি-শার্টের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে কসমেটিকস দোকানি অপু জানান, কসমেটিকসের দোকানে এখনো সেই চাপ শুরু হয়নি, আশা করা হচ্ছে চাঁদরাতের আগের দিনগুলোতে ভিড় বাড়বে।

সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদ পর্যন্ত এই কেনাকাটার জোয়ার বজায় থাকবে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বেচাকেনা জমে থাকবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow