ফরিদপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন, শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের আশা
ফরিদপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে । আজ বৃহস্পতিবার সকালে শহরের গোয়ালচামটে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের জাহানারা আজিজ মেনশন এর নিচ তলায় বেলুন ফেস্টুন পায়রা উড়িয়ে এবং ফিতা কেটে এর উদ্বোধন করা হয়। পরবর্তীতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা জাতীয় পতাকা
উত্তোল ন গার্ড অব অনার প্রদান , দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এর উদ্বোধন করা হয়।
এরপর ফরিদপুর সদর উপজেলা পরিষদে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ডঃ এএসএম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে এ সময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ফরিদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর ৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার এটিএম জাফর হাসান , সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এম এ হালিম, ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোদাররেস আলী ইসা প্রমুখ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন
দীর্ঘদিন পর হলেও ফরিদপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে। এখন আর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাজের জন্য শিক্ষার্থীদের গাজীপুরে যেতে হবে না। এতে সময় ও অর্থ—দুই-ই সাশ্রয় হবে।
তারা এ উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হবে। বক্তারা আরও বলেন, ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তবে গত ১৭ বছরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছিল, যার ফলে শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বক্তারা জানান, এতদিন ফরিদপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শাখা না থাকায় কলেজগুলোকে নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হতো। নতুন আঞ্চলিক কেন্দ্র চালু হওয়ায় ফরিদপুরসহ আশপাশের পাঁচ জেলার কলেজ ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমস্যার দ্রুত সমাধান পাবেন। এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম আঞ্চলিক শাখা হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ কেন্দ্র চালুর মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সাহিত্য, কারিগরি শিক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রমেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা ফরিদপুরের শিক্ষা উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, মাদক নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে লাইব্রেরি স্থাপন প্রয়োজন। একই সঙ্গে যুব সমাজকে খেলাধুলামুখী করতে খেলার মাঠ তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
তারা বলেন, নতুন প্রজন্মের প্রতিভা বিকাশে উপযুক্ত সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে দেশের তরুণরা শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শনে সক্ষম হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া , ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
What's Your Reaction?
জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ