নেত্রকোণা পৌরসভায় নিয়োগে ২ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ: নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত
বদলি ঠেকাতে উচ্চ আদালতে দৌড়ঝাঁপ
নেত্রকোণা পৌরসভায় ৮টি শূন্যপদে জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দুর্নীতির সাম্রাজ্য রক্ষা করতে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা (সাবেক সচিব) আনোয়ার হোসেন মামুন এখন সরকারের বদলি আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।
নিয়োগ বাণিজ্যের নেপথ্যে:
অনুসন্ধানে জানা যায়, নির্বাচনের ডামাডোলের সুযোগে তড়িঘড়ি করে ৮টি পদের বিপরীতে কয়েক কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন সম্পন্ন করেন ৫-৬ জন অসাধু কর্মচারী। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের তীব্র প্রতিবাদ এবং অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ২ ফেব্রুয়ারি এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরীক্ষাটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। স্থানীয়রা একে ‘সোনার ডিম পাড়া রাজহাঁস’র মৃত্যু হিসেবে দেখছেন।
বদলি ঠেকাতে আইনি কৌশল:
গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, পৌর কর্মকর্তাদের বদলি সরকারের এখতিয়ারাধীন। এই নীতিমালার আলোকে আনোয়ার হোসেন মামুনকে বদলি করা হলে তিনি তা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন (নম্বর ৩৭৮৪/২০২৬) দায়ের করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়োগের নামে নেওয়া ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার চাপ এবং দুর্নীতির সাম্রাজ্য হাতছাড়া হওয়ার ভয়েই তিনি এই আইনি পথ বেছে নিয়েছেন।
আঙুল ফুলে কলাগাছ:
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথ্যানুযায়ী, তিনি বহুতল বিলাসবহুল ভবন নির্মাণসহ নিজের এলাকা ও শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজের ভাইকে নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, "মামুন সাহেব চাকরি পাওয়ার পর যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন।" স্বল্প সময়ে তার এই বিপুল বিত্ত-বৈভব দেখে হতবাক স্থানীয়রা।
তদন্তের দাবি:
একজন সরকারি কর্মচারী হয়েও কীভাবে তিনি নিয়ম মেনে বদলি না হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আইনি যুদ্ধে লিপ্ত হলেন এবং তার আয়ের উৎস কী—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই নজিরবিহীন দুর্নীতির উৎস খুঁজে বের করতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নেত্রকোণাবাসী।
What's Your Reaction?
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ