ঐক্য, উন্নয়ন ও আধুনিকতার অঙ্গীকার: নওয়াপাড়া-কুচিয়াগ্রামের ঈদগাঁহ ও গোরস্থানে ২৭ সদস্যের নতুন কমিটি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নওয়াপাড়া-কুচিয়াগ্রামে যৌথ ঈদগাঁহ ও গোরস্থানকে কেন্দ্র করে সূচিত হয়েছে উন্নয়ন, সৌন্দর্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক নতুন যাত্রা। ২৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার হলরুমে অনুষ্ঠিত সভাটি রূপ নেয় এক প্রাণচঞ্চল ও উৎসবমুখর মিলনমেলায়। নওয়াপাড়া, কুচিয়াগ্রাম, তেঘরডাঙ্গা ও চাঁন্দাড়া গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানস্থল হয়ে ওঠে আনন্দঘন। কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং হাসি-আড্ডায় ভরে ওঠে চারপাশ—যেন ঈদের আনন্দ আগেভাগেই ছড়িয়ে পড়ে জনপদজুড়ে।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. মোরাদ হোসেন তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল আলী।
সভাপতি মোরাদ হোসেন তালুকদার বলেন,ঈদগাঁহ ও গোরস্থান আমাদের আবেগ, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক। এটি কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার স্থান নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধনের কেন্দ্র। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় আমরা এটিকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল স্থানে পরিণত করতে চাই।
সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ইকবাল আলী বলেন, এলাকাবাসীর যে আস্থা আমরা অর্জন করেছি, তা আমাদের জন্য বড় দায়িত্ব। আমরা সততা, নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করে এই প্রতিষ্ঠানকে একটি আদর্শ ও গর্বের স্থানে উন্নীত করতে বদ্ধপরিকর। এজন্য সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।
সভায় বক্তারা বলেন, নবনির্বাচিত কমিটি শুধু পরিচালনায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ঈদগাঁহ ও গোরস্থানকে আধুনিকায়ন, সৌন্দর্যবর্ধন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. রফিক হোসেন তালুকদার, প্রবাসী মো. আকরামুজ্জামান (কুয়েত), সাবেক ডিআর মো. ফজলুর রহমান, সাবেক ইউপি সদস্য হেমায়েত হোসেন তালুকদার, বর্তমান ইউপি সদস্য মো. মকিবুল হাসান, আবুল সরকার, সাবেক ইউপি সদস্য মো. সেলিমুজ্জান, মো. হাসমত হোসেন তালুকদার তপন, মো. খোকন তালুকদার, মো. সুমন তালুকদার, আব্দুর রহমান জিকো, খলিলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয়রা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, নবনির্বাচিত কমিটির হাত ধরে ঈদগাঁহ ও গোরস্থান কেবল ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি হয়ে উঠবে সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং প্রজন্মের পারস্পরিক বন্ধনের এক প্রাণকেন্দ্র।
নতুন কমিটি আগামী তিন বছর দায়িত্ব পালন করবে। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, এই সময়ের মধ্যেই নওয়াপাড়া-কুচিয়াগ্রামের যৌথ ঈদগাঁহ ও গোরস্থান একটি আধুনিক, নান্দনিক ও সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে—যা অন্যদের জন্য এক অনুকরণীয় মডেল হয়ে উঠবে।
What's Your Reaction?
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ