আলফাডাঙ্গায় কৃষিজমির মাটি কেটে বিক্রি: ভূমি অপরাধ আইনে যুবকের ৩ মাসের কারাদণ্ড
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির অপরাধে মোঃ হুসাইন শেখ (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে উপজেলার ধুরজুড়ি গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত হুসাইন শেখ ওই গ্রামের মুনছুর শেখের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হুসাইন শেখ তিন ফসলি কৃষিজমি থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও বসতবাড়িতে বিক্রি করছিলেন। এতে ওই এলাকার আবাদি জমি হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে তাকে আটক করা হয়। পরে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৪(১)(গ) ধারা অনুযায়ী তাকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রাহানুর রহমান। এ সময় আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ড প্রদান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রাহানুর রহমান বলেন, কৃষিজমি আমাদের জাতীয় সম্পদ। টপসয়েল কেটে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তন ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় জনতা। সচেতন মহল মনে করছে, ভেকু দিয়ে কৃষিজমির মাটি কাটার ফলে আবাদি জমি ধ্বংসের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। কৃষিজমি ও খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
What's Your Reaction?
কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ