দেশের মানুষ যেন পথেঘাটে হাটতে পারে এবং নিরাপদে ঘুমাতে পারে সেলক্ষ্যে কাজ করা হবে-তারেক রহমান

আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন-জুলাই-আগস্টে ?

আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ
Jan 29, 2026 - 23:09
Jan 29, 2026 - 23:10
দেশের মানুষ যেন পথেঘাটে হাটতে পারে এবং নিরাপদে ঘুমাতে পারে সেলক্ষ্যে কাজ করা হবে-তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন-জুলাই-আগস্টে যারা গুম, খুনে শিকার ও আহত হয়েছে তাদের অনেক ত্যাগ রয়েছে। ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। একপক্ষ চলে গেছে আরেক পক্ষ আছে। এজন্য ব্যালট বাক্স পাহারা দিতে হবে। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ভোট শুরু হলেই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে জেলা বিএনপি এর আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক সফরের কর্মসূচীর অংশ হিসেবে উত্তরের জেলা নওগাঁয় এসেছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তারেক রহমান আরো বলেন, আমি দেশে ১৭ বছর থাকতে পারিনি। তাহলে এতো বছর দেশের উন্নয়ন কি হয়নি। যেখানে যায় সবাই বিভিন্ন বিষয়ে আবদার করে। তবে হুট করে প্লেনে চড়ে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা আমাদের নাই। আমাদের তো আর যাওয়ার কোন জায়গা নাই।

বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের কোন উন্নয়ন ও পরিবর্তন হয়নি। আমরা গ্রামের মানুষের উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। নারীদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই। মানুষ যেন নিরাপদ পথেঘাটে হাটতে পারে এবং নিরাপদে ঘুমাতে পারে সেলক্ষ্যে কাজ করা হবে। ঢাকার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। মেগা প্রকল্প মানে মেগা দূর্নীতি।

কৃষকদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন- কৃষকদের ভাল রাখলে বাংলাদেশ ভাল থাকবে। কৃষকদের সুবিধার জন্য শহীদ জিয়া ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋন সুদ মওকুফ করে দিয়েছিলেন।আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋন সুদ মওকুফ করে দিবো। দেশের সকল কৃষকদের কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে পর্যায়ক্রমে। যা দিয়ে ফসলের যাবতীয় বীজ-সার পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবো। যাতে তার অর্থনীতি ভিত্তি শক্ত হয় এবং প্রাকৃতিক ক্ষতিগ্রস্থ মোকাবেলা করতে পারে।

কৃষকদের খরচ কমাতে ফসল ঢাকায় নিতে রেল ব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং ট্রেনে চড়ে মানুষ সহজে ঢাকা যেতে পারে। তবে নির্বাচিত হলে পরের দিন থেকে এলাকার উন্নয়নে কাজ শুরু করবে।

নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন- মায়েদের স্বাস্থ্যসেবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে। যা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিমাসে একটা সুবিধা প্রদান করা হবে। গ্রাম-গঞ্জে মায়েরা ভাল চিকিৎসা সেবা পান না৷ এজন্য গ্রামে হেলথ কেয়ার করা হবে। এতে ছোট অসুখ ঘরে বসে নিরাময় করতে পারে।

শিক্ষিত বেকারদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন- পড়ালেখা করলে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে এমন না, খেলোয়াড়ও হতে পারে। এজন্য স্কুল থেকে খেলা শিখতে হবে এবং বিদেশে গিয়ে সুনাম অর্জন সহ অর্থনৈতিক ভাবে আয় করতে পারে।

সারাদেশে বহুত শিক্ষিত ছেলেমেয়ে আছে। যেহেতু এটা কৃষি অঞ্চল এবং কলকারখানা আছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করলে তাদের কর্মসংস্থান বাড়বে।

আইটি সেক্টরে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিভিন্ন বিদেশী কোম্পানির সাথে কথা হয়েছে তারা দেশে আসতে চাই। সেখানে আইটি অভিজ্ঞরা কাজ করতে পারেন।

ইমাম-মোয়াজ্জিনদের প্রতিমাসে সম্মানি প্রদান করা হবে। সরকার গঠন করা হলে দাবীগুলো আস্তে আস্তে বাস্তবায়ন করা হবে। আর এ লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে ধানের শীষ প্রতিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান তিনি।

নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুর সভাপতিত্বে বক্তব্য- কেন্দ্রীয় বিএনপির সমবায় বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হক সনি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম মিঠু, নওগাঁ ওলামা ইসলামের সভাপতি মুফতি ইলিয়াস তুহিন, কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য ও মান্দা থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মতিন, জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, জেলা বিএনপির সভানেত্রী সাবিনা আক্তার পলি, সদর বিএনপির সভাপতি দেওয়ার মোস্তাক আহমেদ রাজা, পৌর বিএনপির সভাপতি ডা: মিজানুর রহমান মিজান, যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ হায়দার টিপু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফিউল আজম টুটুল, যুবদল নেতা শামিনুর রহমান শামিম সহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজ রহমান, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী ডা: শামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী ডা: ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু ও নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী শেখ মো: রেজাউল ইসলাম এবং জয়পুরহাট-১ আসনের প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান ও জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী আব্দুল বারী বক্তব্য রাখেন।

নওগাঁবাসীর পক্ষ থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, শিশু হাসপাতাল, আত্রাই নদীর ওপর সেতু, একটি রেললাইন, কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কার ও জনবল বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার মানসহ বেশকিছু দাবী দাওয়া তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দ।

এসময় জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মীয় স্বজন ও আহতরা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow