পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম কারাগারে
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত প্রায় ২৬ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলমকে (৫৩) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণী অনুযায়ী, সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা এবং তার স্ত্রী শাহাজাদী আলম লিপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। গত ১১ জানুয়ারি দুদকের বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হামিদুল আলম এবং তার স্ত্রী দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শাহাজাদী আলম লিপি তার স্বামী হামিদুল আলমের সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুস-দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত ২৬ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৭ টাকার অবৈধ সম্পদ ভোগ দখলে রেখেছেন। এর মধ্যে ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ অবৈধভাবে হস্তান্তর বা রূপান্তর (লেয়ারিং) করে উৎসের গোপনীয়তা রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট গোলাম দস্তগীর ও অ্যাডভোকেট মাহবুবা খাতুন সুখী। অন্যদিকে আসামিপক্ষে জামিনের আবেদন করেন ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমানসহ বেশ কয়েকজন আইনজীবী। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে হামিদুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, হামিদুল আলম বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার তাজুরপাড়ার বাসিন্দা এবং তিনি বাধ্যতামূলক অবসরে থাকা একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা। এই মামলায় তার স্ত্রী শাহাজাদী আলম লিপিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ