বান্দরবানে জোটের স্বার্থে সরে দাঁড়ালেন জামায়াত প্রার্থী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বান্দরবান ৩০০ নং সংসদীয় আসন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও দলের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আবেদন জমা দেওয়া হয়।
প্রার্থীর পক্ষে জেলা জামায়াত ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল আউয়ালসহ দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ রিটার্নিং অফিসারের নিকট উপস্থিত হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদনপত্র জমা দেন।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত নেতৃবৃন্দ জানান, বান্দরবান পার্বত্য জেলায় দলটির ব্যাপক জনসমর্থন ও সাংগঠনিক ভিত্তি থাকা সত্ত্বেও বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘‘বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী এবার জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তাই কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে এবং ১০ দলীয় জোটের ঐক্য অটুট রাখতে আমাদের প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।’’
এ সময় নেতৃবৃন্দ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কারণে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ১০ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জামায়াত প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় বান্দরবান ৩০০ নং আসনে এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী, সাবেক এমপি ও বোমাং রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী। এছাড়া ভোটের মাঠে লড়ছেন এনসিপি মনোনীত প্রার্থী আবু সাঈদ শাহ্ সুজাউদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সভাপতি মাওলানা মো. আবুল কালাম আজাদ এবং জাতীয় পার্টি (কাদের) থেকে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ।
আগামী ২২ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা নতুন ধাপে প্রবেশ করবে। প্রতীক পাওয়ার পরপরই জেলার সাতটি উপজেলায় প্রার্থীরা জোরেশোরে প্রচারণা শুরু করবেন এবং ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
What's Your Reaction?
অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ