জলঢাকায় ঘরে তালাবদ্ধ করে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা
নীলফামারীর জলঢাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে গভীর রাতে ঘুমন্ত পরিবারের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দুর্বৃত্তদের দেওয়া এই আগুনে বাড়ির ভেতরে থাকা খড়পূজে (খড়ের স্তূপ) অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বুদাস চন্দ্র রায় (৪০) নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম বালাগ্রাম চন্ডিহাটি (৪নং ওয়ার্ড) গ্রামের লিটন চন্দ্র রায়ের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী লিটনের মা ফেলানী রানী রায় (৬৫) আতঙ্কে শিউরে উঠে জানান, "রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে আমরা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। গভীর রাতে প্রতিবেশীদের চিৎকারে ঘুম ভাঙলে দেখি বাড়ির ভেতরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। বাঁচার জন্য ঘর থেকে বের হতে চাইলে দেখি দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। আমরা নিশ্চিত মৃত্যুর প্রহর গুনছিলাম। পরে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তালা ভেঙে আমাদের উদ্ধার করে এবং আগুন নেভাতে সাহায্য করে।"
লিটন চন্দ্র রায় জানান, দুর্বৃত্তরা শুধু তার ঘরের দরজাই নয়, বরং প্রতিবেশী তরনী মোহন চন্দ্র রায় ও চাটি রাম রায়ের বাড়ির দরজাও বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, "এ নেক্কারজনক কাজ কারা করেছে তা আমরা জানি না। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র রক্ষা পেলেও পালুইয়ের সব খড় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।" সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জলঢাকা উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। উপজেলা আমির মোখলেছুর রহমান মাষ্টারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির আলহাজ্ব কামারুজ্জামান, সেক্রেটারি মোয়াম্মার আল হাসান, জামায়াত নেতা হামিমুর রহমান হামীম এবং বালাগ্রাম ইউনিয়ন সভাপতি আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
পরিদর্শনকালে জামায়াত নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেন এবং তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
What's Your Reaction?
হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা প্রতিনিধি, নীলফামারীঃ