এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
উচ্চ আদালত ও সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নীলফামারীর জলঢাকায় থামছে না কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) বিক্রির মহোৎসব। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একশ্রেণির অসাধু মাটি ও বালু ব্যবসায়ী কৃষি জমি থেকে দেদারসে মাটি কেটে বিক্রি করছে বিভিন্ন ইটভাটায়। এতে একদিকে যেমন উর্বরতা হারিয়ে হুমকির মুখে পড়ছে ফসলি জমি, অন্যদিকে গ্রামীণ রাস্তাঘাট নষ্ট হয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মুন্সিপাড়া ও রাজারহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনরাত চলছে মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ। ভেকু (এক্সেভেটর) দিয়ে জমি খুঁড়ে ট্রাক্টর ও ট্রলি ভরে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। যত্রতত্র মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে বারবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার মিলছে না। অভিযোগ করলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘দেখছি’, ‘আসছি’ বা ‘ভূমি কর্মকর্তাকে পাঠাচ্ছি’—এ জাতীয় দায়সারা উত্তর পাওয়া যায় বলে তারা জানান। প্রশাসনের এই নীরবতার সুযোগে মাটিখেকো চক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
মাটি পরিবহনের ফলে গ্রামীণ কাঁচা সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলার দূষণে অতিষ্ঠ পথচারীরা, আর সামান্য বৃষ্টিতে কাদা হয়ে সড়কগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়। পথচারী জাকির হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, "ট্রলি চলার কারণে রাস্তাগুলো শেষ হয়ে গেছে। প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।"
এদিকে মাটি ব্যবসায়ীদের দাবি, জমি নিচু করে ফসল ভালো করার উদ্দেশ্যে তারা মাটি কাটছেন। তবে পরিবেশবিদদের মতে, উপরিভাগের পুষ্টিসমৃদ্ধ মাটি বা টপসয়েল কেটে নেওয়ায় ওই জমির উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, যা পার্শ্ববর্তী জমির জন্যও হুমকিস্বরূপ।
এ বিষয়ে খুটামারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তাকে কেউ আগে জানায়নি। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, "মাটি কাটার বিষয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ আসছে এবং আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"
নীলফামারী জেলা প্রশাসক নায়িমুজ্জামান এ প্রসঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "অবৈধভাবে বালু বা মাটি উত্তোলনকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলেই আমরা দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) এক রিটের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত কৃষিজমির মাটি কাটা এবং নদীর বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। এই আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানার বিধান থাকলেও জলঢাকায় তার বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অক্টোবর ২৩, ২০২৪
জানু ১১, ২০২৬
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
নোয়াখালী | ৬ আগস্ট, ২০২৬
নওগাঁ | ৬ আগস্ট, ২০২৬
পিরোজপুর | ৬ আগস্ট, ২০২৬
বান্দরবান | ৬ আগস্ট, ২০২৬
ফরিদপুর | ৬ আগস্ট, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।