সহিংসতা এড়িয়ে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রেখে নির্বাচনী প্রচারণার নির্দেশ শামা ওবায়েদের
ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা) আসনে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি হুমকি-ধামকি ও একটি হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে দলীয় নেতাকর্মীদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি নেতাকর্মীদের কোনো প্রকার উসকানিতে পা না দিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
ফেসবুক পোস্টে শামা ওবায়েদ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা স্মরণ করে লেখেন, ‘‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সবসময় বিশ্বাস করতেন—ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের ভিত্তিতেই রাজনীতির চর্চা হওয়া উচিত। বিএনপি জন্মলগ্ন থেকেই এই আদর্শ ধারণ করে আসছে। ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো নীতিমালা বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপি কখনো আপস করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।’’
বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘গত প্রায় ১৮ বছর ধরে বিএনপির ওপর অব্যাহত দমন-পীড়ন ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। তবুও আমরা গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকারের ওপর থেকে বিশ্বাস হারাইনি। বিএনপি ক্ষমতার রাজনীতিতে নয়, বরং জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী। সেই বিশ্বাস থেকেই ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে অংশগ্রহণ থেকেও বিএনপি বিরত থেকেছে।’’
নিজের রাজনৈতিক দর্শনে বাবা কে এম ওবায়দুর রহমানের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘‘আমার বাবা দলমত নির্বিশেষে নগরকান্দা ও সালথার মানুষকে নিজের আপনজন হিসেবে দেখতেন। কারো বিপদে তিনি আগে মানুষ হিসেবে পাশে দাঁড়াতেন, পরে দলের পরিচয় খুঁজতেন। আজও এই অঞ্চলের মানুষ তাঁর সেই মানবিক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বকে স্মরণ করেন।’’
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘দীর্ঘ ১৮ বছর পর জনগণ আজ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। এই ঐতিহাসিক সময়ে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা বিএনপি এবং সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আমার আহ্বান—পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও শান্তি বজায় রেখে ধানের শীষের প্রচারণা চালান। শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে গণমানুষের কাছে পৌঁছে যান।’’
বার্তার শেষাংশে তিনি একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির আহ্বান জানিয়ে লেখেন, ‘‘আসুন, আমরা সবাই মিলে ভয়ের বদলে বিশ্বাসের রাজনীতি, সহিংসতার বদলে সহনশীলতার রাজনীতি এবং ক্ষমতার বদলে জনগণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করি।’’
What's Your Reaction?
জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টারঃ