সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১১ মাস পর নিজ গ্রামে ফিরল বম পরিবার

অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
Jan 29, 2026 - 16:47
Jan 29, 2026 - 16:47
সেনাবাহিনীর সহায়তায় ১১ মাস পর নিজ গ্রামে ফিরল বম পরিবার

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ১১ মাস ২২ দিন পর ভারতের মিজোরাম থেকে বান্দরবানের থানচি উপজেলার সীমান্ত এলাকায় নিজ গ্রামে ফিরেছেন একটি বম পরিবারের ৬ সদস্য। বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে তারা থানচি ইউনিয়নের শেরকর পাড়ায় নিজ বসতবাড়িতে পৌঁছান।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে পরিবারটি পাড়া ছেড়ে ভারতের মিজোরামে চলে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তারা রাঙামাটির হরিণা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন এবং বান্দরবানে অবস্থান নেন। এরপর বান্দরবান রিজিয়ন ও ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের অধীনস্থ ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সহায়তায় গত বুধবার বিকেল ৩টায় তারা বাকলাই পাড়া আর্মি ক্যাম্পে পৌঁছান।  

বাকলাই পাড়া সেনা ক্যাম্পের পক্ষ থেকে ফিরে আসা পরিবারটিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এসময় তাদের মাঝে দুপুরের খাবার, চিকিৎসা সহায়তা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় শুকনা রসদ প্রদান করা হয়।  

নিজ ভিটায় ফিরতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পরিবারের সদস্য ৭৬ বছর বয়সী প্রবীণ সুন খুপ বম বলেন, “বান্দরবান রিজিয়নের বাকলাই পাড়া সেনা জোনের আওতাধীন থানদুই পাড়া, সিমত্লাংপি পাড়া ও প্রাতা পাড়াসহ অন্যান্য এলাকা থেকে চলে যাওয়া পরিবারগুলো ধীরে ধীরে ফিরে এসে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে। তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরাও নিজ গ্রামে ফেরার সিদ্ধান্ত নেই। সেনাবাহিনীর নিঃস্বার্থ সহায়তায় আমরা আমাদের ঘরে ফিরতে পেরেছি, এজন্য আমরা চিরকৃতজ্ঞ।”  

এ বিষয়ে প্রাতা পাড়ার কারবারি পারকেলিং বম বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা আমাদের পাশে ছিল এবং আছে। তাদের সহায়তায় জনশূন্য হয়ে যাওয়া বম পাড়াগুলো পুনরায় প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বিষয়।”  

বাকলাই পাড়া সেনা ক্যাম্পের (১৬ ইস্ট বেঙ্গল) ক্যাম্প কমান্ডার জানান, বম জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনে নিরাপত্তা, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সকল ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া তিনি পাড়ার শিশু-কিশোরদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া এবং পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহ প্রদান করেন।  

সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগের ফলে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারগুলোর মধ্যে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে আসছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow