এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘কাপ্তাই নতুন বাজার লকগেইট ১০ শয্যা হাসপাতাল’। বিশেষ করে চিকিৎসক ডা. এ.কে.এম. কামরুল হাসান যোগদানের পর থেকে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবার মান দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সেবার মান বাড়লেও তীব্র জনবল সংকট, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব এবং চিকিৎসক-স্টাফদের আবাসনের জরাজীর্ণ দশা বর্তমানে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, কাপ্তাইয়ের দুর্গম এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, অতীতে এখানে নিয়মিত চিকিৎসক পাওয়া ছিল দুষ্কর। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে এবং আউটডোর ও ইনডোরে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগী স্বস্তি প্রকাশ করে জানান, আগে এখানে ডাক্তার পাওয়া যেত না, কিন্তু এখন বড় ডাক্তার নিয়মিত বসেন এবং খুব যত্ন নিয়ে রোগীদের কথা শোনেন।
জানা যায়, ডা. কামরুল হাসান গত দুই বছরে নিজস্ব অর্থায়নে রোগীদের বসার ব্যবস্থা এবং সুপেয় পানির সংকট নিরসন করেছেন। তবে সরকারিভাবে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ না থাকায় উন্নত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। ১০ শয্যার এই হাসপাতালে নূন্যতম যেসব আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকা প্রয়োজন, তার বড় একটি অংশই এখানে নেই। এর চেয়েও করুণ দশা হাসপাতালটির আবাসিক ভবন বা ডরমেটরির। চিকিৎসকদের থাকার জন্য নির্ধারিত ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরনো ও জরাজীর্ণ। ভবনের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, জানালার কাঁচ ভাঙা এবং চারপাশ ঝোপঝাড়ে আবৃত হয়ে থাকায় স্থানীয়রা একে ‘ভূতের বাড়ি’ বলে ডাকেন। নিরাপদ আবাসনের অভাবে চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে কর্মস্থল থেকে দূরে অবস্থান করছেন, যা জরুরি মুহূর্তে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।
হাসপাতালটিতে জনবল সংকট এখন চরমে। কাপ্তাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. দিলদার হোসেন বলেন, চিকিৎসায় গতি ফিরলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও জনবল সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র ২-৩ জন স্টাফ দিয়ে এই বিশাল রোগীর চাপ সামলানো অসম্ভব। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে।
সমস্যার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহ্লা অং মারমা জানান, আবাসন সমস্যার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, হাসপাতালটি এই অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আবাসন সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে এবং দ্রুত সমস্যাগুলো সমাধানের আশা করা যাচ্ছে।
জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও স্বাস্থ্য বিভাগ দ্রুত নজর দিলে এই হাসপাতালটি পাহাড়ি অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের জন্য একটি আদর্শ স্বাস্থ্যকেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জুলাই ১৪, ২০২৬
নোয়াখালী | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাগুরা | ৫ অক্টোবর, ২০২৪
ফরিদপুর | ৫ আগস্ট, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ৫ আগস্ট, ২০২৬
নওগাঁ | ৫ আগস্ট, ২০২৬
ফরিদপুর | ৫ আগস্ট, ২০২৬
ফরিদপুর | ৫ আগস্ট, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।