নগরকান্দায় চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন: ঘাতক ভাগ্নে গ্রেফতার
ফরিদপুরের নগরকান্দায় প্রবাসফেরত ভাগ্নের হাতে খালা খুনের চাঞ্চল্যকর ও 'ক্লুলেস' হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র দুই দিনের মাথায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে মূল আসামীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে নগরকান্দা থানা পুলিশ।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ দিবাগত রাতে নগরকান্দা উপজেলার রাধানগর (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত জমির উদ্দিন ভূঁইয়ার স্ত্রী জামেলা বেগমকে (৬৫) নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। দুর্বৃত্তরা লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের সেফটি ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই শেখ মোতালেব বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-২৭, তারিখ: ২৯ মার্চ ২০২৬) দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর কোনো ক্লু না থাকায় বিষয়টি পুলিশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসানের নেতৃত্বে এবং নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নাজমুল ইসলামসহ পুলিশের টিমটি তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৩১ মার্চ ভোরে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন থানার গাজীরটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল আসামী মোঃ আলমগীর হোসেনকে (৪১) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আলমগীর নিহতের আপন ভাগ্নে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে অপরাধ স্বীকার করেছে। সে জানায়, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে সে চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। ঋণের চাপে দিশেহারা হয়ে খালা জামেলা বেগমের কাছে একাধিকবার টাকা ধার চায় সে। কিন্তু খালা টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে সে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৭ মার্চ রাতে সে খালার বাড়িতে অবস্থান নেয়। গভীর রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে ভোররাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে ঘুমন্ত খালার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে লাশটি বাড়ির পাশের সেফটি ট্যাংকে ফেলে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে ভোরে পালিয়ে যায়।
নগরকান্দা থানার পুলিশ জানায়, আসামীকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘদিনের ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুততম সময়ে উদঘাটন এবং আসামীকে আইনের আওতায় আনায় পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের তৎপরতায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
What's Your Reaction?
শফিকুল ইসলাম মন্টু/ মিজানুর রহমান মিজানঃ